সব খবর সবার আগে।

বাড়ছে রক্তচাপ! সিআইডির হাতে এবার গ্রেফতার হতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী!

আজ, সোমবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন দেহরক্ষীর রহস্যমৃত্যুর মামলায় তাঁকে তলব করে সিআইডি। সকাল ১১টার সময় হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ইমেল করে শুভেন্দু জানান যে তিনি এদ্দিন ভবানীভবনে হাজিরা দিতে যাবেন না। এর কারণও উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে, শুভেন্দুর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন যে হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও শুভেন্দু অধিকারীকে তলব করা হল কেন?

কিছুদিন আগেই শুভেন্দু কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, তিনি বিরোধী দলনেতা হওয়ায় তাঁকে নানান মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি আবেদন জানান যাতে তাঁর বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলার মতো এই মামলাটিরও তদন্ত করে সিবিআই।

আরও পড়ুন- ইডি দফতরে হাজিরা অভিষেকের, ঢুকলেন পিছনের গেট দিয়ে

আজ, সোমবার দুপুর দুটোয় সেই মামলার শুনানি রয়েছে আদালতে। এই কারণে আদালতের তরফে জানানো হয় যে এখনই সমনের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এর আগেই শুভেন্দু বারণ করে দেন। শুভেন্দু হাইকোর্টে দাবী জানান যাতে সব মামলার তদন্তই সিবিআই করে। এরই সঙ্গে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় থাকায় আদালতের থেকে আগাম সুরক্ষা কবচও চেয়ে নেন শুভেন্দু।

উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর রহস্যমৃত্যু ২০১৮ সালে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর। এর জেরে শুভেন্দু অধিকারীকে বিড়ম্বনায় ফেলার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। গত শনিবার তাঁকে ১৬০ সিআরপিসি-তে তলব করে সিআইডি। এই মামলার প্রায় তিন বছর পর গত জুলাই মাসে তদন্তের দাবী তুলে এফআইআর দায়ের করেন শুভেন্দুর প্রাক্তন দেহরক্ষীর স্ত্রী সুপর্ণা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিহত দেহরক্ষীর স্ত্রী সঠিক তদন্তের দাবী করে এফআইআর করেন।

অভিযোগপত্রে সুপর্ণা উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালে ১৪ই অক্টোবর এই ঘটনা ঘটে। তিনি জানান যে একটি ফোনে তিনি জানতে পারেন, তাঁর স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুভব্রতকে কাঁথি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পৌঁছন তাঁর স্ত্রী।

চিকিৎসকেরা সেই সময় জানান, তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থার ক্রমশই অবনতি হচ্ছে। দ্রুতই তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পেতে অনেক দেরি হওয়ায় কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার আগেই শুভব্রতর মৃত্যু হয়। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর সন্দেহ, ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যাম্বুলেন্স সেদিন দেরি করে এসেছিল। এফআইআর-এর বয়ানে এমনটাই জানিয়েছেন সুপর্ণা

কিন্তু এবার এখান থেকেও প্রশ্ন ওঠে যে ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৮ সালে, তাহলে তিনি এতদিন কেন চুপ করে বসেছিলেন? তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পিছনে যে কোন রহস্য রয়েছে, তা বুঝতে তাঁর এতদিন সময় লেগে গেল? তিন বছর পর ২০২১ সালে তিনি এফআইআর করলেন কেন?

এই নিয়ে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন রাজ্য সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্য এমন করছে। তাঁর আশঙ্কা ছিল সিআইডি তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। এই কারণে তিনি হাইকোর্টে আবেদন জানান যাতে এই মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইকে।

আরও পড়ুন- ‘বিজেপিতে আমাকে সম্মান দেওয়ার কেউ নেই’, শিক্ষক দিবসের দিন আক্ষেপ প্রকাশ মাস্টারমশাইয়ের

চলতি বছরের জুলাই মাসে মামলার তদন্ত শুরু করে সিআইডি। রেকর্ড করা হয় শুভব্রতর পরিবারের বয়ান। তাঁর তৎকালীন সহকর্মীদের ডেকে পাঠানো হয়। তবে এদিন শুভেন্দু সিআইডির হাজিরা এড়ানোর পর তাঁকে এরপর আবার কবে তলব করা হবে, তা এখনও জানা যায়নি।

You might also like
Comments
Loading...