কলকাতা

মেডিকেল কলেজ-এর করোনা ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে কুড়ি মিনিট বাইরে ঘুরলেন রোগী

করোনা রোগী তো কি হয়েছে তাদের কি চা খেতে ইচ্ছা করে না? না একটু বাইরে ঘুরতে ইচ্ছা করে না? এমনই ইচ্ছার বশে মেডিকেল কলেজের গ্রীন ওয়ার্ড থেকে এক করোনা রোগী যার বয়স ৬৫ বছর, বেরিয়ে চলে আসেন নিচে।

গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বেলা সোয়া দুটো নাগাদ এক বৃদ্ধ বেরিয়ে আসেন মেডিকেল কলেজের গ্রীন বিল্ডিংয়ের করোনা ওয়ার্ড থেকে। তার হাতে তখনও স্যালাইনের চ্যানেল করা, পায়ে জুতো নেই বরং পা প্লাস্টিক দিয়ে মোড়া। কিন্তু কেন তিনি বেরিয়েছেন? তিনি ভেবেছেন নাহ্! এরকম বন্দিদশা আর নয়, বাইরে বেরোবো চা খাব তারপর সোজা বাড়ি। কিন্তু না তার ভাবনাটা যতটা সহজ ছিল সেটা বাস্তবায়িত করার পথটা অতটা সহজ হলো না। গ্রীন বিল্ডিংয়ের ৬ তলা থেকে বেরিয়ে ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধ ডাক্তার-নার্সদের ওঠানামা করার সিঁড়ি দিয়ে সোজা নিচে চলে আসেন। কিন্তু এর পরেই ওই রোগীর পথ আটকান অন্যান্য রোগীর আত্মীয়রা। মুখে মাস্ক, পায়ে প্লাস্টিক জড়িয়ে থাকা অসুস্থ ওই বৃদ্ধের হাঁটাচলা ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক। তাই লক্ষ্য করে বৃদ্ধের পথ আটকান কয়েকজন রোগীর আত্মীয়রা। তারা জানতে চান, এই চ্যানেল হাতে নিয়ে কোথায় যাবেন?

এই প্রশ্ন শুনে কিন্তু বৃদ্ধ বিন্দুমাত্র অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন না বরং তিনি বললেন, আমি করোনা আক্রান্ত। নিমতায় বাড়ি আমার। এখানে ভর্তি ছিলাম ছয় তলায়, এখানে থাকলে আমি মরে যাব। ঠিকমতো খেতে পারি না তাই নেমে পালিয়ে এসেছি। এখানে থাকলে আমাকে মেরে ফেলবে এরা। এইতো সামনে চায়ের দোকানে চা খাবো, তারপর বাড়ি চলে যাব।

করোনা আক্রান্ত এই বৃদ্ধের মুখে এমন কথা শুনে তাজ্জব বনে যান রোগীর আত্মীয়রা। তারা সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন পুলিশে এবং খবর যায় হাসপাতালের সুপারের অফিসেও। এরপরে ওই বৃদ্ধ গ্রীন বিল্ডিংয়ের নীচে প্রায় কুড়ি মিনিট ঘোরাঘুরি করতে থাকেন বাড়ি যাবার জন্য। তারপর কোনোরকমে তাকে বুঝিয়ে আবার ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে উঠতে থাকে প্রশ্ন। নিরাপত্তারক্ষীদের চোখ এড়িয়ে একজন করোনা রোগী কি করে নিচে নেমে আসতে পারেন, তা নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা শুরু হয়েছে। মেডিকেল কলেজের মত বড় হাসপাতালে তাহলে কি রোগীদের কোনো সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নেই? এ প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

প্রতিবেদনটি লিখেছেন – অন্তরা ঘোষ

Related Articles

Back to top button