সব খবর সবার আগে।

পুরনো দলীয় কর্মীদের সম্মান দেয় না তৃণমূল কংগ্রেস! তৃণমূল ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে কয়েকশো কর্মী

সামনেই বিধানসভা ভোট আর তার আগেই এক অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হতে হল তৃণমূল কংগ্রেসকে। কার্যত বলা যায় এই ঘটনা একপ্রকার নজিরবিহীন। তাঁরা দলের পুরোনো কর্মী, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি অনুগত প্রাণ। কিন্তু তা সত্বেও শাসক দলে তাঁদের যথাযথ সম্মান, গুরুত্ব নেই। আর এই অভিযোগ তুলে করোনা আবহের মধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় তৃণমূল (TMC) ভবনের সামনে হাজির হয় কয়েকশো দলীয় কর্মী। তৃণমূল ভবনের সামনে দলের পতাকা নিয়ে তারা সামিল হন ব্যাপক অবস্থান বিক্ষোভে।

প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের তৃণমূল অবস্থা থেকে যুক্ত অর্থাৎ শাসক দলের পুরনো কর্মীরা যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন না। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বহুদিন ধরেই উঠছিল। অভিমানে তাঁরা দল থেকে বিমুখ হচ্ছিলেন। বাস্তবটা বুঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাঁদের কাছে টানার বার্তা দেন। বারবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছিলেন, যেন তাঁদের দায়িত্ব দিয়ে ফের দলে সক্রিয় করা হয়। আর দিদির সেই বার্তায় কতটা কাজ হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হল শনিবার তৃণমূল ভবনের সামনের ছবিতে। এদিনের বিক্ষোভ সামাল দেন দলের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সি। তাঁর হস্তক্ষেপেই জট কাটে। আগামী সপ্তাহে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিলে অবস্থান উঠে যায়।

তবে খাস তৃণমূল ভবনের সামনে খোদ দলীয় কর্মীদের এমন বিক্ষোভ আগে কখনও দেখা যায়নি বলেই মত রাজ্যের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের। উল্লেখ্য আজ বেলার দিকে মেদিনীপুর থেকে দার্জিলিং – বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকশো কর্মী জড়ো হন তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দপ্তরের সামনে।

বিক্ষোভকারীদের পরাক্রমকে নিরাপত্তারক্ষীরাও টলাতে পারেননি। সারা দুপুর তৃণমূল ভবনের সামনের রাস্তার দু’ধারে তাঁরা অবস্থান করেন। কখনও কখনও স্লোগান তুলে বিক্ষোভও দেখান। বারবারই দাবি করতে থাকেন যে তাঁরা নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকেই সমস্যার কথা জানাবেন।

সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে অবহেলিত পুরনো তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা জানান বক্তব্য, ”আমরা দলের বহু পুরনো কর্মী। কিন্তু তেমন গুরুত্ব পাচ্ছি না। ভোট কিংবা দলের অন্যান্য কাজে আমাদের ডাকা হচ্ছে না। তাই আমরা নেত্রীর কাছে জানতে এসেছি, এর কারণ কী। আমরা আবার ভোটের কাজ করতে চাই আগের মতো। আমাদের দলকে ফের ক্ষমতায় আনতে চাই।”

আর এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন সুব্রত বক্সি। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, অভিযোগের কথা শোনেন। তারপর জানান যে আগামী বৃহস্পতিবার তাঁদের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তিনি নিজে আলোচনায় বসবেন। সমস্ত শুনে সমাধানের চেষ্টা করবেন। এতে খানিকটা আশ্বস্ত হন দলীয় কর্মীরা।

You might also like
Comments
Loading...