সব খবর সবার আগে।

নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করতে চান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্রদের অবস্থান বিক্ষোভে ক্ষুব্ধ সুরঞ্জন দাস

বারবার ছাত্রদের অবস্থান বিক্ষোভে রীতিমতো অতিষ্ঠ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। এই কারণেই নিজের পদ ছাড়ার হুঁশিয়ারি শানালেন তিনি। গতকাল রাতেই নিজের সহকর্মী ও অধ্যাপকদের একথা তিনি জানিয়েছেন বলে খবর মিলেছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই গরম বিশ্ববিধ্যালয়ের পরিস্থিতি। এমনিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কোনও নতুন ঘটনা নয়। তবে এবারের বিক্ষোভের কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ব্যবস্থাপনা বা জুমসের দায়িত্ব বাইরের সংস্থাকে দেওয়া ও ভর্তির ত্রুটি-সহ একাধিক বিষয়। পড়ুয়ারা দাবী তুলেছেন যে বাইরের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ায় পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচুর ভুল ভ্রান্তি হচ্ছে।

এই অভিযোগ আসার পর জুমসের পুনর্বিন্যাস নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল এই কমিটির বৈঠক চলে প্রায় রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। এদিন সকাল থেকেই অরবিন্দ ভবনের সামনে জমায়েত করে পড়ুয়ারা। বৈঠক শেষ হওয়ার পর পড়ুয়াদের দাবী নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার দাবী ওঠে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দাবী করে যে, ভিতরে গিয়ে বৈঠক করা যাবে না। এই প্রসঙ্গে সহ-উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানান যে ভিতরে গিয়ে বৈঠক করলেই তাদের আটকে পড়তে হবে সারা রাত, তাই ভিতরে গিয়ে বৈঠকে তারা নারাজ।

গত সপ্তাহেই এই একই দাবীতে মাঝরাত পর্যন্ত আটকে থাকতে হয়েছিল কর্তৃপক্ষকে। এরপরই অধ্যাপক সমিতির পক্ষ থেকে সুরঞ্জন দাসকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে সশরীরে বৈঠকে তারা কেউ অংশ নেবেন না। গতকাল আবার কলা বিভাগের সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করা হয় যে, ছাত্রদের ঘেরাও প্রতিবাদে তারা নাকি আটকে পড়েছেন। কিন্তু এদিকে আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয় যে, তারা কোনও ঘেরাও করেননি।

এত কিছুর মধ্যে বুধবার রাতেই নিজের পদত্যাগের কথা জানান উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। তাঁর দাবী, সদিচ্ছা নিয়েই পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁর কর্মীরা কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু তারপরেও যা হয়, তাতে বিশ্বাসভঙ্গ হয়েছে তাঁর। তাই তাঁর ও দুজন সহ উপাচার্যের পক্ষে আর কাজ করা সম্ভব নয়।

আজ ফের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এদিনই পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন তিনি, এমনই খবর মিলেছে।

You might also like
Comments
Loading...