দেশনিউজ

“নতুন কৃষি আইন কৃষকদের অনেক সুযোগ খুলে দেবে, আর্থিকভাবে নিরাপদ করবে”, আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষি বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লি সরগরম। কৃষি সমাবেশ নিয়ে এরই মধ্যে জরুরি বৈঠক ক্রেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, সোমবার, এই কৃষি বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদী। তিনি কৃষকদের ভুল ধারণা দূর করানোর জন্য বলেন, “কয়েক দশক ধরে কৃষকদের মনেভুল ধারণা জন্মিয়ে দেওয়া হয়েছে”।

মোদীর কথায়, “আমি মা গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে বলছি, কৃষকদের ঠকানোর কোনও উদ্দেশ্য আমার নেই। নতুন কৃষি আইনে যে খোলা বাজারের কথা বলা হয়েছে, তাতে আগেকার মান্ডি উঠে যাবে। কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মুল্য পাওয়া বন্ধ হবে না”। নিজের বারাণসী কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, নতুন আইন কৃষকদের অনেক সুযোগ খুলে দেবে। তাদের আর্থিকভাবে নিরাপদ করবে। দেশ ও বিদেশের বাজারে সহজেই কৃষকেরা নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

এদিকে, আগেই অমিত শাহ বিক্ষোভরত কৃষকদের বলেছিলেন যে, কেন্দ্র তাদের সব সমস্যা ও দাবীর কথা শুনতে রাজী। কিন্তু তাদের একটি শর্ত দেয় সরকার। তা হল, বিক্ষোভকারীরা যেখানে সেখানে ছড়িয়ে থাকতে পারবেন না। দিল্লির উপকণ্ঠে বুবারি অঞ্চলে তাদের জমায়েত হতে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কিন্তু এই শর্ত মানতে নারাজ কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, তারা সবাই যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্ষোভ দেখান, তাহলে সরকার ওই জায়গাকে অস্থায়ী জেলখানা বানিয়ে দিতে পারে। এর আগেও দিল্লি পুলিশ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কাছে অনুমতি চেয়েছিল যাতে শহরের পাঁচটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলখানা বানিয়ে দেওয়া যায়। তাদের দাবী, তারা কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে খোলা মনে কথা বলবেন। বুরারি যাবেন না তারা।

কৃষকেরা দিল্লি ঢোকার পাঁচটি পথ বন্ধ করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছে। সেই রাস্তাগুলি হল, গাজিয়াবাদ-হাপুর, জয়পুর, মথুরা, সোনিপত, রোহতক। সোমবার সকালে দিল্লি পুলিশ শহরবাসীদের কাছে আবেদন করেছেন যাতে তারা ওই রাস্তাগুলি এড়িয়ে চলেন।

বলে রাখা ভালো, রবিবার রাতেই এই কৃষি সমাবেশ নিয়ে বিজেপি সভাপতি যে পি নাড্ডার বাড়িতে বৈঠকে বসেন বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, ও কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার।

Related Articles

Back to top button