সব খবর সবার আগে।

ফিরল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি! বাংলাদেশের হাতে অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার তুলে দিল ভারত, পরিবর্তে উপহার পেল এল এফ-৮৬ সাবরে

ভারতের মুক্তিযুদ্ধের বায়ুসেনার কাহিনীতে যে নামটি বারবার উঠে আসে, তা হল ‘কিলো ফ্লাইট’। এটিই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ বিমান চালানোর সাংকেতিক নাম। সেই সময় কোনও কমব্যাট এয়ারক্রাফট ছিল না। তাই ভারত বাংলাদেশকে উপহার দেয় নন-কমব্যাট এয়ারক্রাফট। সেই নন-কমব্যাট এয়ারক্রাফট দিয়েই বিমানবাহিনী তৈরি করে বাংলাদেশ। এই এয়ারক্রাফটের একটি ছিল অ্যালুয়েট-থ্রি হেলিকপ্টার।

চারদিনের সফরে বাংলাদেশে গিয়েছেন ভারতের বায়ুসেনাপ্রধান আর কে এস ভাদুরিয়া। এই সফরেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ফেরাতে ভারতের বায়ুসেনাপ্রধান অ্যালুয়েট-থ্রি তুলে দিল বাংলাদেশকে। পরিবর্তে ভারতকে বাংলাদেশ দিল নর্থ আমেরিকান এফ-৮৬ সাবরে এয়ারক্রাফট।

১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হল। এই পঞ্চাশ বছরকে ‘স্বর্ণিম বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করচেহ ভারত ও বাংলাদেশ। এই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে ভারতীয় সেনা কীভাবে নাস্তানাবুদ ক্রেছিল, সেই স্মৃতিই ফেরানোর উদ্দেশ্যে ভারত ও বাংলাদেশ, একে অপরকে যুদ্ধবিমান উপহার দিল।

আরও পড়ুন- নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন ফিরহাদের! জিতলে ইমামদের ভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন পুরমন্ত্রী

একাত্তরের এই মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের কাছে যতটা গর্বের, ঠিক ততটাই কালিমালিপ্ত পাকিস্তানের কাছে। এর দুটি কারণ রয়েছে। এক, এই যুদ্ধে পাকিস্তান ভেঙে দু’ভাগ হয়ে যায় ও দুই, এই যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রায় ৯৩ হাজার পাক সেনা। তাই এই যুদ্ধ নিয়ে পাকিস্তান কোনও আলোচনায় যেতে না চাইলেও, বাংলাদেশ সগৌরবে এই মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দেয়।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এই প্রথম ইউনিট তথা কিলো ফ্লাইট তৈরি হয়েছিল ভারতের ডিমাপুরে। ভারত বাংলাদেশকে উপহার দেয় তিনটি নন-কমব্যাট এয়ারক্রাফট। এগুলি হল- অ্যালুয়েট-থ্রি হেলিকপ্টার, অটার ডিএইচসি-৩ ও সিসি-৩ ডাকোটা। এই তিনটি এয়ারক্রাফট দিয়েই তৈরি হয় বাঙ্গালদেশের ‘কিলো ফ্লাইট’। এই যুদ্ধবিমান তৈরিতে বাংলদেশকে সাহায্য করেছিল ভারতের বিমানবাহিনীর ক্যাপ্টেন চন্দন সিং। এই কিলো ফ্লাইট ইউনিটে অফিসার ছিলেন ৯ জন ও সেনাকর্মী ছিলেন ৫৮ জন। এই অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার চালিয়েই বাংলাদেশের ভেতরে প্রথম অপারেশন করা হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপর হামলা চালাতে এই কিলো ফ্লাইট ব্যবহার করা হয়। এই ইউনিট পরিচালনার কাজ চলত ভারতীয় বায়ুসেনার বেস জোড়হাট থেকে। ১৯৭১ সালের ৪ থেকে ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে এই ইউনিট মোট ৯০টি অভিযান চালায়। প্রায় ৪০টি অপারেশন পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন- বামেদের ব্রিগেডে যেতে বাধা প্রশাসনের, বাম কর্মীদের উপর হামলা তৃণমূলের, অভিযোগ করে গর্জে উঠলেন আব্বাস সিদ্দিকি

অন্যদিকে, পাকিস্তানের দখলে ছিল ১৪টি চীনা মিগ-১৯, আমেরিকার তৈরি এফ-৮৬ সাবরে এয়ারক্রাফট। এগুলি রাখা ছিল ঢাকার এয়ারবেসে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তান চীনা মিগ উড়িয়ে নিয়ে গেলেও রয়ে যায় সাবরে এয়ারক্রাফটগুলি। সেই এয়ারক্রাফট বাংলাদেশী সেনা ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ভারতের বায়ুসেনাও। সেই সাবরে এয়ারক্রাফটই উপহার দেওয়া হল ভারতকে।

You might also like
Comments
Loading...