সব খবর সবার আগে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতকে আটকাতে চীনের পাকিস্তান প্রীতি ছুটিয়ে দিল জার্মানি, আমেরিকা

ভারতের বিরোধিতা করতে গিয়ে এইভাবে আন্তর্জাতিক মহলে বেইজ্জত হতে হবে তা স্বপ্নেও কল্পনা করেনি চীন। ভারতকে নীচে নামানোর জন্য এবার তারা হাত মেলাতে গিয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে! সেই কাজ করতে গিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়ল চীনের।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে করাচি স্টক এক্সচেঞ্জে জঙ্গি হামলা সম্পর্কিত একটি নিন্দাপ্রস্তাব পেশে বিলম্ব ঘটাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি। করাচি স্টক এক্সচেঞ্জের জঙ্গি ভারতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। আর পাকিস্তানের এই অভিযোগকে সমর্থন করে চীন। এরই তীব্র বিরোধিতা করেছে আমেরিকা ও জার্মানি।

মার্কিন সময় অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে চীনের পেশ করা ওই খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মনে করেন, সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপে যুক্ত, তাদের আয়োজক, অর্থ জোগানদার ও প্রচারকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। এই ঘটনায় সদস্যরা পাক সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে যাতে হামলায় যুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নীরবতা প্রক্রিয়ায় এই বিবৃতি পেশ করে চিন।

কী এই নীরবতা প্রক্রিয়া?

কোনও দেশ যদি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনও বিবৃতিতে আপত্তি না তোলে, তাহলে তা গৃহীত হিসেবে ধরে নিতে হবে। বলা বাহুল্য, পাকিস্তানের অভিযোগের বিরুদ্ধে আপত্তি না জানিয়ে উল্টে তাদের সমর্থন করে ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলার চেষ্টা করে চীন।

কিন্তু চীন বোধহয় বুঝতে পারেনি বিকালের মধ্যেই খেলা অন্যদিকে ঘুরে যাবে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টে নাগাদ জার্মানি প্রথম এই বিবৃতিতে আপত্তি জানায়। তারা স্পষ্ট করে দেয়, পাকিস্তানের দাবি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও চীন ভারতকে অপমান করার চেষ্টা চালিয়ে যায় কিন্তু আবার হার!

রাষ্ট্রপুঞ্জে চীনের দূত জার্মানির আপত্তি খারিজ করার পাল্টা দাবি তোলেন। তাদের বক্তব্য, সময়সীমা পার হওয়ার পর জার্মানির আপত্তি এসেছে। যদিও ওই প্রস্তাবের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া হয় বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত। সেই সময় পার হওয়ার আগে, আবার আপত্তি জমা পড়ে। এবার আপত্তি জানায় আমেরিকা।

পরে, বুধবার বিকালে বিবৃতি পেশ করা হয়। আমেরিকা ও জার্মানি যেভাবে চীনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তা চীনকে আন্তর্জাতিক মহলে রীতিমত চাপে ফেলে দিয়েছে বলে মত কূটনীতিকদের। এবার চীন কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই দেখার।

You might also like
Leave a Comment