সব খবর সবার আগে।

লালফৌজের আক্রমণ ঠেকাতে আন্দামান নিয়ে সতর্কতা কেন্দ্র, ঢেলে সাজতে চলেছে দ্বীপভূমির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

চীনের আগ্রাসী মনোভাবের সঙ্গে পরিচিত গোটা বিশ্ব। যেভাবে ভারতের উপর থাবা বাড়াচ্ছে এই দেশ তাতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় সরকার। তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সতর্ক হল ভারত সরকার। ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তার কথা ভেবে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ভারতীয় সেনার পরিকাঠামো ও সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি লাদাখে যেভাবে চীন ভারতের ওপর আক্রমণ হেনেছে তা চাক্ষুষ করার পর আর কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না কেন্দ্রীয় সরকার। তাই আন্দামানে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে ভারত। কারণ কূটনীতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে ভারত মহাসাগরের ওপর অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান চীনের সাম্রাজ্যবাদ মোকাবিলা করার জন্য অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ।

২০০১ সালে আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ডের প্রতিষ্ঠা করা হয়। এটিই এখনও পর্যন্ত দেশের প্রথম এবং একমাত্র থিয়েটার কম্যান্ড, যেখানে আর্মি, বায়ুসেনা এবং নৌসেনা একটিই অপারেশনাল কম্যান্ডারের অধীনে রয়েছে।

যদি অভিযোগ উঠেছিল যে আন্দামান-নিকোবর কম্যান্ড নিয়ে ভারত সরকার খুব একটা সচেতন নয়। কিন্তু গালওয়ানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে ভারত। অন্যদিকে আন্দামান-নিকোবরের পাশ দিয়েই ভারত মহাসাগরের মধ্যে দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করে চীন। এই বিষয়কেই এবার গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার।

উত্তর আন্দামানের শিবপুরে নৌসেনার এয়ার স্টেশন আইএনএস কোহাসারের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ক্যাম্পবেলে আইএনএস বাজের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানোরও কথা চলছে। প্রয়োজনে বড় যুদ্ধবিমান যাতে এখান থেকে কাজ করতে পারে, তার জন্য বাড়ানো হচ্ছে রানওয়ের দৈর্ঘ্য।

এছাড়া আন্দামান-নিকোবরের সেনাবাহিনীর জন্য বিশেষ রোল ওয়ান প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। ঈপ্ল আইনের অধীনে 10 বছরের জন্য আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। আরও যুদ্ধবিমান , নৌজাহাজ ও সেনা এখানে মোতায়েন করা হবে। এই কাজে ৫৬৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

২০২৭ সালের মধ্যেই আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সেনা পরিকাঠামো বৃদ্ধির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। এখানে আগামী বছরের মধ্যেই যুদ্ধবিমানের পাকাপাকি ঘাঁটি তৈরি করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

অন্যদিকে চীনের মোকাবিলা করার জন্য জাপানের সাহায্য ও সমর্থন পেয়েছে ভারত। জাপানে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত চিনয় বলছেন, ভারত মহাসাগরে চীনের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে গেলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলির সাহায্য লাগবে। সেক্ষেত্রে আমেরিকা ও জাপানের কাছে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের প্রবেশাধিকার দেওয়া

হলে চীনা সাবমেরিনের ওপর নজরদারি চালানোয় সুবিধা হত ভারতের। তিনি একটি রিপোর্ট তৈরি করেছেন। সেই রিপোর্টে বলা হচ্ছে, চীন খুব দ্রুত ভারত মহাসাগরের ওপর নিজেদের কব্জা পেতে চাইছে। পাকিস্তানের গদর ও দিজিবৌটিতে নতুন ঘাঁটি তৈরি করা থেকে শুরু করে, চীনা সাবমেরিনের আনাগোনা কোনও সুযোগই ছাড়ছে না চীন।

এদিকে, ভিয়েতনামের বিদেশমন্ত্রক অভিযোগ করেছিল সেদেশের মৎস্যজীবীদের নৌকায় হামলা চালায় চীনা নৌবাহিনীর জাহাজ। ইন্দোনেশিয়াও অভিযোগ করেছে যে, চীন জলসীমা নিয়ে ক্রমাগত উত্যক্ত করছে। তাই এই সকল দেশ যদি ভারতের চীন বিরোধী লড়াইয়ে সমর্থন যোগায় তবে ভারতকে চীন কোনওভাবেই আটকাতে পারবে না।

You might also like
Leave a Comment