সব খবর সবার আগে।

লক্ষ্য বঙ্গ বিজয়! মতুয়া মন জিতে ওড়াকান্দিতে দাঁড়িয়েই পশ্চিমবঙ্গ ভোটের প্রচার সারলেন মোদী

আজ থেকে শুরু হয়েছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। আর এই মোক্ষম সময়ে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তাঁর বিদেশ সফরের জন্য এই সময়টাকে বেছে নেওয়া যে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক এবং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ তা বলা বাহুল্য। আর এর প্রধান কারণ মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট। বাংলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট টানতে আগ্রহী তৃণমূল-বিজেপি নির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক দলই। তবে এই কাজে বোধহয় মমতাকে মাত দিলেন মোদী। বাংলাদেশ সফরের নামে সোজা পৌঁছে গেলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রবক্তার জন্মস্থানে।

আরও পড়ুন- মোদী সফরের বিরোধিতায় জুম্মার নমাজের পর বিক্ষোভ ঢাকায়, বেধড়ক মার পুলিশের

গতকালই মোদী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওড়াকান্দিতে আসার ইচ্ছা ছিল তাঁর। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বাংলাদেশে এসেও ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। অবশেষে শনিবার সেই ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। যদিও ঠিক পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের সময় ‘কূটনৈতিক’ সফরে মোদী ওড়াকান্দিতে যাওয়ায় অনেকেই রাজনৈতিক ছায়া দেখতে পাচ্ছেন।

ঠাকুরনগর,  ওড়াকান্দি দু’জায়গার দূরত্ব প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। দেশও আলাদা। কিন্তু বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে দাঁড়িয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তাতে পুরোপুরি রাজনৈতিক বার্তা খুঁজে পেলেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ওড়াকান্দিতে দাঁড়িয়েই পশ্চিমবঙ্গ ভোটের একপ্রস্থ প্রচার সেরে নিলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গতকাল বাংলাদেশ সফরে গেছেন নরেন্দ্র মোদী। আজ সফরের দ্বিতীয় দিনেই গোপালগঞ্জে মতুয়া ধর্মের প্রবক্তা হরিচাঁদ ঠাকুর জন্মস্থানে যান তিনি। সেখানে গিয়ে  ওড়াকান্দি মন্দিরে প্রার্থনা করেন। পরে নিজের ভাষণে দাবি করেন, কীভাবে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এসেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তিনি নিয়মিতভাবে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুগামীদের থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঠাকুরবাড়ির আমার মনে আছে, আমি পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে গিয়েছিলাম, তখন আমার মতুয়া পরিবারের সদস্যরা আমায় অপরিসীম ভালোবাসা দিয়েছেন। বিশেষত বড়মা যেভাবে আমায় কাছে টেনে নিয়েছিলেন, মায়ের মতো আশীর্বাদ করেছিলেন, তা আমার জীবনের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। ঠাকুরনগর থেকে বাংলাদেশে এসে একইরকম অনুভূতি হচ্ছে।’

আরও পড়ুন- আজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, ঢাকা সফরের আগে ‘বঙ্গবন্ধু’র স্মৃতিচারণা মোদীর

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিশেষত যেভাবে মতুয়া সমাজের প্রশস্তি করলেন, তাতে ঠাকুরনগর এবং নদিয়ার মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার কৌশল স্পষ্ট। এমনকী বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদী। জানান, শান্তনু তাঁর থেকে বয়সে ছোটো হলেও বনগাঁর সাংসদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারেন। কারণ শান্তনু শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত। মোদী বলেন, ‘আজ ভারত এবং বাংলাদেশ ঠাকুরবাড়ি এবং শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর বহু দশক ধরে করে আসছে। এটা ভারত এবং বাংলাদেশের আত্মিক সম্পর্কের তীর্থক্ষেত্র।’

You might also like
Comments
Loading...