দেশ

‘স্বাধীনতার পর দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসক মোদীজিই’, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাফল্যের কাহিনী বর্ণনা করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে দারিদ্র দূরীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতিতে দেশ অনেক এগিয়েছে। এমনটাই দাবী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকি, এদিন নরেন্দ্র মোদীকে স্বাধীনতার পর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসক আখ্যা দিলেন অমিত শাহ।

প্রশাসক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কুড়ি বছর পূর্ণ করেছেন। তাঁর কাজের পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “দুই দশক আগে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন প্রশাসক হিসাবে তাঁর কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না, কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলেও নিজের দক্ষতায় তিনি সফল প্রশাসক হিসাবে নিজেকে প্রমাণিত করেছেন”।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ২০১৪ সালে মনমোহন সিং যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রত্যেক সদস্যই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ভাবতে শুরু করেছিলেন। আর আসল প্রধানমন্ত্রীকেই কেউ গুরুত্ব দিতেন না।

অমিত শাহ্‌’র কথায়, সেই সময় দেশে কোনও জাতীয় নিরাপত্তা ছিল না। ভারত নিজের গর্ব হারিয়েছিল। ১২ লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি সামনে আসার পর সকলেই মনে করেছিলেন যে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। কিন্তু মোদীজি ক্ষমতায় আসার পরই সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করেছেন যে এবার দেশের উন্নতি হবে।

এদিন অমিত শাহ বলেন, “ভারতের সমস্যা কেবল প্রশাসনিক বা অর্থনাতিক উন্নয়নের মধ্য়ে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সম্মান রক্ষা করাও প্রয়োজন এবং সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। এই কাজ একমাত্র একজন জনপ্রিয় নেতাই করতে পারেন। দেশের গরিব মানুষদের কষ্ট উপলব্ধি করা, দরিদ্রের থেকে দরিদ্র মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল পান, এমন উপলব্ধি যার রয়েছে, একমাত্র সেই নেতাই যোগ্য শাসক হয়ে উঠতে পারেন”।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, “অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন ও দারিদ্র দূরীকরণও প্রয়োজন। দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উন্নয়ন, দেশবাসীর শিক্ষার ব্যবস্থা এবং আমাদের সংস্কৃতিতে আরও উজ্জ্বল করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যখন এই সবকটি শর্তই পূরণ হয়, কেবল তখনই একজন সফল প্রশাসক হয়ে উঠতে পারেন”।

বিগত সাত বছরে মোদী সরকারের নেওয়া নানান সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “যখন ২০১৬ সালে নোটবন্দি ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন সকলেই জানত যে সামনেই উত্তর প্রদেশ নির্বাচন রয়েছে, ফলে বড় ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন এবং ওই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। কারণ তারা বুঝেছিলেন যে দেশের কালা ধন উদ্ধারের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এরমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর অন্য কোনও স্বার্থ ছিল না”।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর আরও প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদী নিজেকে প্রধান সেবক বলে মনে করলেও আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, স্বাধীনতার পর আমাদের দেশে যতজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তারমধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রশাসক উনিই। কারণ তিনি এই সমস্ত শর্তগুলিই পূরণ করেছেন এবং সাফল্যের নিরিখে দেশকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন”।

Related Articles

Back to top button