সব খবর সবার আগে।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি তে ভর করে চা-বিক্রেতার মেয়েই আজ বায়ুসেনার পাইলট! মেয়ের অর্জনে জিতে গেলেন বাবা।

একরত্তি মেয়ে স্বপ্ন দেখতো আকাশে ওড়ার। কিন্তু পরিবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যা তাতে আকাশে ওড়ার স্বপ্ন তো দূর রোজকার খাবার জোগাড় করতেই নাজেহাল অবস্থা। বাবা বাস স্ট্যান্ডের চা বিক্রেতা। ওই দিয়েই কোন‌ও মতে সংসার চলে। কিন্তু ওই যে ইচ্ছাশক্তি। ওটা থাকলে যে কোনও কাজ‌ই অনেক সহজ হয়ে যায়। আর এই ইচ্ছেশক্তি ও পরিশ্রমের জোরেই চা বিক্রেতা সুরেশ গঙ্গবালের মেয়ে আঁচল গঙ্গবাল আজ বায়ুসেনার পাইলট।

ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমিতে থাকাকালীন মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করা দু:সাধ্য হয়ে উঠত চাওয়ালা বাবর কাছে। দীর্ঘ কষ্টের একটা যাত্রাপথ কাটিয়ে মেয়ে আঁচল আজ সফলতার মুখ দেখেছে। নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কোনও বাধাই যে বাধা নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করল ২৪ বছরের আঁচল।

ভোপাল থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত নিমুচ জেলা থেকে উঠে এসেছে বায়ু সেনার এই নতুন পাইলট। চা বিক্রি করেই সংসার থেকে শুরু করে তাঁর পড়াশোনা সবটাই চালিয়েছেন বাবা ‌‌ নিজেই জানিয়েছেন বহুবার মেয়ের স্কুল, কলেজে ফিস দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁকে। অনেক সময় হাত পাততে হয়েছে অন্যের কাছে। কিন্তু আজ তিনি খুশি।

২০০৩ সালে কেদারনাথ ঘটনায় সেনার ভূমিকা প্রভাব ফেলে আঁচলের মনে। মেধাবী আঁচল বইয়ের দোকান থেকে খোঁজ নেয় কীভাবে বায়ুসেনার অংশ হওয়া যায়। তারপর লড়াই আর লড়াই। টানা পাঁচবার ব্যর্থ হওয়ার পর ষষ্ঠবারে সুযোগ পায় নিমুচের চাওয়ালার ওই মেয়েটি। ডুন্ডিগল এয়ারফোর্স অ্যাকাডেমি থেকে বায়ূসেনার ফ্লায়িং অফিসার হয়ে উঠেছে আঁচল। মেয়ের সেনায় অন্তর্ভুক্তি করোনার কারণে স্বচক্ষে দেখতে পাননি বাবা-মা। তার আক্ষেপ একটু আছে কিন্তু আনন্দটাই বেশি।

মেয়ের স্বপ্ন সত্যি হওয়ায় জিতে গিয়েছেন বাবা। তিনি আজ সবচেয়ে গর্বিত বাবা। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান টুইট করে আশীর্বাদ ও শুভ কামনা করেছেন আঁচলের জন্য। তিনি লিখেছেন, “চা বিক্রেতা বাবার মেয়ে আঁচল গোটা মধ্যপ্রদেশকে গর্বিত করেছে। এবার দেশের গর্ব ও সম্মান ধরে রাখতে আকাশের উঁচুতে উড়বে।”

Leave a Comment