সব খবর সবার আগে।

চেন্নাই বিমানবন্দরে হিন্দি না বলায় সাংসদ কানিমোঝির নাগরিকত্বে প্রশ্ন তুলল CISF, বাংলা পক্ষ প্রতিবাদে মুখর

ভারত এমন একটি দেশ যেখানে একাধিক ভাষাকে সম্মান জানানো হয়। ভারতের সংবিধানেও সেই একাধিক ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হিন্দিভাষীরা নিজেদের ভাষাকে ব্যবহার করে অহিন্দি রাজ্যগুলোতে নিজেদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত হয়েছে। কিন্তু একজন সরকারি আধিকারিক কিভাবে একজন সাংসদ কে অপমান করার সাহস পান শুধু হিন্দি না বলার কারণে? আর একজন মানুষ নিজের রাজ্যে থেকে নিজের মাতৃভাষা ছেড়ে হিন্দি কেনই বা বলতে যাবে?

চেন্নাই বিমানবন্দরে ডি এম কে সাংসদ কানিমোঝি হিন্দি বলতে না পারার জন্য তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এক হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী CISF কর্তা। এই নিন্দনীয় ঘটনার প্রতিবাদ করে কানিমোঝির পাশে দাঁড়ালেন বাংলার জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা পক্ষ। বাংলার বুকেও বহুবার বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলা পক্ষ প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবার আবারও হিন্দিভাষীদের বিরুদ্ধে অহিন্দি জাতির ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে কানিমোঝি ও এম কে স্ট্যালিন কে তামিল, ইংরাজী ও বাংলা ভাষায় মেইল করল বাংলা পক্ষ।

বাংলাতেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে হিন্দি ভাষায় কথা না বলতে পারার জন্য মানুষকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। রাজ্যের বাইরে থেকে অনেকেই সরকারি চাকরি করতে এ রাজ্যে আসেন। এরপর মানুষকে তাদের পরিষেবা দেওয়ার সময় তাঁরা এ রাজ্যের ভাষা না ব্যবহার করে নিজেদের হিন্দি ভাষাকে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে অপমান করেন। এই বিষয়ে বাংলা পক্ষ একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবং মাননীয়া সাংসদ কানিমোঝির মতো বাংলা পক্ষর সদস‍্য গর্গ চ‍্যাটার্জী, অমিত সেন, আজিম শেখ, সহেলী চক্রবর্তী, জিয়াউল হক, অভিজিৎ কুণ্ডু-র মতো মানুষদেরও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

তাই মাননীয়া সাংসদ কানিমোঝির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো ঘটনার পর ওই CISF কর্তার বরখাস্তের দাবি তুলে বাংলা পক্ষ কানিমোঝি ও এম কে স্ট্যালিন কে তামিল, ইংরাজী ও বাংলা ভাষায় মেইল করেছে। এছাড়া সেখানে তাঁদের আরও কয়েকটি দাবিও তুলে ধরেছেন।

১) কোন রাজ‍্যে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীদের সেইরাজ‍্য থেকেই নিয়োগ করতে হবে এবং সেটি অফিসার স্তর পর্যন্ত কার্যকর করতে হবে। প্রয়োজনে অহিন্দি রাজ‍্যে অন‍্য অহিন্দি রাজ‍্য থেকেই কর্মীদের নিযুক্ত করতে হবে।

২) চাকরির নিয়োগ ও নিয়োগ পরবর্তী পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেবল হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ওপরই জোর দেওয়া হয়। কিন্তু সংবিধানে এইদুটি ছাড়াও আরও ভাষা রয়েছে। তাই সংবিধান স্বীকৃত সব ভাষাতেই নিয়োগ পরীক্ষা কার্যকর করতে হবে। বর্তমানে CISF এর নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু হিন্দিতেই পরীক্ষা হয়। যার ফলে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদীরা আরও বেশি করে অহিন্দি জাতির মানুষের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।

You might also like
Leave a Comment