সব খবর সবার আগে।

কেন‌ও মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে ‘দেশ বন্ধ’ করেছিল কেন্দ্র? বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে উত্তর দিলো মোদী সরকার!

করোনা (covid-19) সংক্রমণের হাত থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত সরকার (Indian government)। কিন্তু মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে ‘দেশ বন্দি’ (lockdown) হওয়ায় মহা মুশকিলে পড়ে আপামর দেশবাসী। বিশেষত যারা সেই মুহূর্তে নিজের শহর বা রাজ্যের বাইরে ছিল তারাই এই হঠাৎ হ‌ওয়া লকডাউনে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে।একইভাবে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পরিযায়ী শ্রমিকদের (migrant workers)। যাদের ঘরে ফেরার করুণ চিত্র এখন‌ও দেশবাসীর মনে তাজা।

দেশে করোনা সংক্রমণ ধীরে ধীরে জাল বিস্তার করতে শুরু করলে মার্চ মাসের ২৩ তারিখ রাত আটটার সময় প্রধানমন্ত্রী (prime minister) জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখার সময় জানান হাতেগোনা আর মাত্র ৪ ঘণ্টা পর থেকেই দেশে জারি হবে লকডাউন। কিন্তু কেন‌ও মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে ভারতের মতো একটা বৃহত্তম দেশে লকডাউন জারি করা হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি বিরোধীরা। এই প্রশ্ন‌ উঠে আসে সংসদে সদ্য অধিবেশন শুরু হতেই। সংসদে কংগ্রেসের লিখিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের তরফ থেকে এর উত্তর দেওয়া হল।

কেন্দ্রের তরফ থেকে উত্তরে জানানো হয়েছে, মোদী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের চলাফেরা বন্ধ না হলে করোনা সংক্রমণ আরও দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়বে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই (Nityanand Rai) লিখিত আকারে সেই সকল প্রশ্নের উত্তর হিসাবে জানিয়েছেন, ৭ই জানুয়ারি থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় সংক্রমণ আটকানোর জন্য।

প্রথমেই আন্তর্জাতিক উড়ান (international flight) বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী ওই সময় লকডাউন জারি না করা হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যেত। এরপরই কেন্দ্রের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের (Congress) পক্ষ থেকে আরও একটি প্রশ্ন রাখা হয় সংসদে, যা হলো এই লকডাউন জারি করার ফলে করোনার সংক্রমণ কি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে?

এর উত্তরে কেন্দ্রের তরফ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, লকডাউন জারি হওয়ার কারণে করোনা সংক্রমণের দ্রুতগতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। আর যার ফলে সময় পাওয়া গেছে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পরিকাঠামো তৈরি করার। মার্চের পর আইসোলেশন বেডের সংখ্যা বেড়েছে ২২ গুণ এবং আইসিইউ বেডের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ গুন। অন্যদিকে গবেষণাগারের সংখ্যাও বেড়েছে ১০ গুণ।

You might also like
Leave a Comment