দেশ

করোনা চিকিৎসায় আলো দেখাচ্ছে ফ্যামোটিডিন অ্যান্টাসিড! দাবি বিশেষজ্ঞদের

অ্যান্টাসিড রুখবে করোনা! করোনা চিকিৎসায় আশা জাগাতে পারে অ্যান্টাসিড ফ্যামোসিড নতুন গবেষণায় এমনটাই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নিউ ইয়র্কে করোনা রোগীদের উপরে এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে পজিটিভ ফল পাওয়া গিয়েছে। চীনেও এই ওষুধের ট্রায়াল চলছে। 

ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় ফ্যামোসিড। এই ওষুধকে করোনা মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে বলেই আলোচনা করছে মোদী সরকার।

ভারতীয় জনৌষধি পরিযোজনা এবং ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (NPPA) কে এই ওষুধের গুণমান পরীক্ষা ও উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্যামোসিড পেপটিক আলসার, বুকজ্বালা, পেট ব্যথা, খাদ্যনালীর ঘা বা সংক্রমণজনিত রোগ সারাতেও কাজে আসে।  মাত্র ৪০ পয়সায় এই ওষুধ পাওয়া যায় ভারতে। ফ্যামোটিডিনের উৎপাদন ও করোনা চিকিৎসায় এই ওষুধের ট্রায়াল কীভাবে হতে পারে সেই সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি জরুরি বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন মন্ত্রী ও ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগের প্রধান মনসুখ মান্ডভিয়া, ফার্মাসিউটিক্যালস বিভাগের সচিব পিডি বাঘেলা, ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনপিপিএ-র চেয়ারম্যান শুভ্র সিং এবং জনৌষধি পরিযোজনার সিইও সচীন সিং। 

এক সরকারি আধিকারিকের কথায়, “অন্যান্য দেশে করোনা রোগীদের উপর এই ওষুধের সুফলের কথা জেনেই ফ্যামোটিডিনের স্টক বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এখনও অবধি যা রিপোর্ট পাওয়া গেছে তাতে মনে হয় আগামী দিনে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের মতো এর চাহিদাও বাড়বে। তবে দেশে এই ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি করতে কোনও সমস্যা হবে না।”

এবার ফ্যামোটিডিন সম্পর্কে বিশদে জানা যাক।

ফ্যামোটিডিন হল ‘অ্যান্টিহিস্টামিন’ জাতীয় ওষুধ যা অম্বল, গ্যাস, বুকজ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো রোগ সারাতে কাজে আসে। পেপটিক আলসারেও এই ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। করোনার সংক্রমণে যেহেতু খাদ্যনালীর রোগ, পেট ব্যথা, অম্বল-বমিভাবের মতো উপসর্গও দেখা যাচ্ছে, তাই এই ওষুধ সেক্ষেত্রে কাজ করতে পারে বলেই আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের অধীনস্থ ফার্মাসিউটিক্যাল এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দীনেশ দুয়া বলেন, “ফ্যামোটিডিন অনেক পুরনো ওষুধ। ভারত এই ওষুধ নিজেই বানাতে পারবে, বাইরে থেকে কাঁচামাল আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। সান ফার্মা, টোরেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস ও ক্যাডিলা এই ওষুধ তৈরি করে। বছরে সাত কোটির উপর ফ্যামোটিডিন ট্যাবলেট বিক্রি হয় দেশে।”

ফ্যামোটিডিন ওষুধের সুফলের কথা প্রথম বিশ্বকে  জানিয়েছিল চীন। উহানের হাসপাতালে প্রবীণদের চিকিৎসায় এই অ্যান্টাসিড ভাল কাজ করেছিল বলেই জানানো হয়েছিল। গত ২৬ এপ্রিল ‘সায়েন্স ম্যাগাজিন’ জার্নালের একটি রিপোর্টে চীনের চিকিৎসক ও গবেষকরা এই ওষুধকে কাজ লাগানো কথা দাবি করেন। চীনা চিকিৎসকদের কথায়, যারা ফ্যামোটিডিন খেয়েছিলেন তাদের মৃত্যুহার ১৪%, আর যাদের খাওয়ানো হয়নি তাদের মৃত্যুহার ২৭% এর কাছাকাছি। 

তবে এখনও এই ওষুধ নিয়ে আইসিএমআর কিছু জানায়নি। এই ওষুধ ট্রায়াল পিরিয়ডে আছে। ভারতে এই ওষুধ কতটা কাজ করবে তাও পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

Related Articles

Back to top button