দেশ

বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সিপিএমের, যশবন্ত সিনহাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী করায় ক্ষোভ বামমহলে, বন্ধ করা হল ফেসবুক পোস্টের কমেন্ট বক্স

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে (Presidential Election) সিপিএমের (CPM) তরফে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে যশবন্ত সিনহাকে (Yashwant Sinha)। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি দলের অনেকেই। আর তা নিয়ে ক্ষোভের পারদ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। আর তা বাড়তে বাড়তে এমন পরিস্থিতিতে ঠেকল যে সিপিএমের সর্বভারতীয় ফেসবুক পেজে (Facebook page) যশবন্ত সিনহা সম্পর্কিত নানান পোস্টের কমেন্ট বক্সই (comment box) বন্ধ করে দেওয়া হল বামেদের তরফে।

আসলে, গত মঙ্গলবার রাতে সিপিএমের সর্বভারতীয় ফেসবুক পেজ থেকে একটি বিবৃতি পোস্ট হয়। সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশন প্রথমে খোলাই ছিল,। প্রায় ঘণ্টা খানেকের মধ্যে ৯০টির বেশি কমেন্ট পড়ে। কিন্তু সেসব কমেন্টে যশবন্ত সিনহার নামে সমর্থন জানানোর সমালোচনা করা হয়। আর এরপরই ওই পোস্টে কমেন্ট করার জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার গতকাল, বুধবারও সর্বভারতীয় সিপিএমের ফেসবুক পেজ থেকে যশবন্ত সিনহার একটি প্রেস বিবৃতি পোস্ট করা হয়। আর প্রথম থেকেই এই পোস্টের কমেন্ট বক্স বন্ধ।

যশবন্ত সিনহাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী করায় যে দলের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। দলের অনেকেরই প্রশ্ন বিজেপিকে আটকানোর জন্য প্রাক্তন বিজেপি নেতার উপর কেন আস্থা রাখতে হবে? কেউ কেউ তো আবার এও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ২০১৪ সালে এই যশবন্ত সিনহাই নরেন্দ্র মোদীর পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে গোধরা হিংসা নিয়ে মোদী ক্ষমা না চেয়ে ঠিক করেছেন।

দলের অন্দরে এমন মন্তব্যও করা হয়েছে যে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা অক্ষুণ্ণ রাখতেই নাকি ডি রাজা, সীতারাম ইয়েচুরিরা যশবন্তের নামে উলুধ্বনি দিচ্ছেন। বাংলার বামদলের তরফেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়েছে। আর এরই মধ্যে সিপিএমের তরফে একটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে দলের সম্পর্কে বা দলীয় কোনও নেতৃত্বের সম্পর্কে কোনও মতামত থাকলে, তা দলের মধ্যেই দিতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু বলা যাবে না। কিন্তু তা আর শুনছে কে!

বাংলা থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একমাত্র বাম সাংসদ হিসেবে ভোট দেবেন বিকাশ ভট্টাচার্য। তিনি এক সংবাদমাধ্যমে জানানে, “বিরোধী ঐক্যের প্রার্থী চেয়েছিল পার্টি। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচন ঠিক হয়নি”। তিনি এও জানান, “জাতীয়স্তরে বিরোধী ঐক্যের প্রশ্নে একটা অবস্থান নিতেই হত। কিন্তু প্রার্থী বাছাইটা ঠিক হয়নি। আপাতত এটুকু বলতে পারি”।

অন্যদিকে এই বিষয় নিয়ে এক তরুণ সিপিএম নেতার বক্তব্য, “ওইভাবে কমেন্ট বক্স বন্ধ করে দিয়ে পার্টি আরও বেশি ক্ষোভ বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তা নয়, এটা বেইজ্জতিও বটে। এতে প্রমাণ হয় যে কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা শোনার মতো সহনশীলতাও নেই”।

Related Articles

Back to top button