সব খবর সবার আগে।

৬ মাসের মধ্যেই চার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা! হঠাৎ কী এমন ঘটল গেরুয়া শিবিরে?

মাত্র ৬ মাস, আর এর মধ্যেই বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই নিয়ে চতুর্থ মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন, বা বলা ভালো তাদের ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে। আজ, শনিবারের আগে পর্যন্ত এমন মুখ্যমন্ত্রীর সংখ্যা ছিল তিন ও রাজ্যের সংখ্যা ছিল দুই। তবে গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংখ্যা পাল্টে হয়ে গেল চার ও তিন।

কারণ, আগাম কোনওরকম ইঙ্গিত ছাড়াই হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী। এমন ঘটনা জাতীয় রাজনীতিতে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে গেরুয়া শিবিরে হঠাৎ হলটা কী?

আরও পড়ুন- কোমর বেঁধে শুরু নির্বাচনের প্রস্তুতি, তৃণমূলের জালেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে ফাঁদে ফেলার কৌশল বিজেপির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘরের বিধানসভা কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনের বছরখানেক বাকী থাকতেই পদত্যাগ করেন গুজরাট মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে  নেতৃত্বকে নতুন রূপ দিতে এই সিদ্ধান্ত। অন্তত কর্ণাটক ও গুজরাতে মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফাতে ভোটের অঙ্ক রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

২০২২ সালে ভোট রয়েছে গুজরাট ও উত্তরাখণ্ডে। এরপরের বছর ভোট কর্ণাটকে। এই তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে দলের অন্দরেই নানান অসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল। এই ক্ষোভের আঁচ পৌঁছয় দিল্লিতেও। এই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বার্তা প্রথমে মেনে নেন ইয়েদুরাপ্পা ও এবার মেনে নিলেন রূপানী।

উত্তরাখণ্ডের একটু অন্যরকমই ব্যাপার ছিল। ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতের জায়গায় মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন তিরথ সিং রাওয়াত। কিন্তু শপথ নেওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যে নিজের পদ ছাড়তে হয়। কারণ তাঁর এই চার মাসের মেয়াদই ছিল নানান বিতর্কে ঘেরা। এই কারণেই বিজেপি কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি।

এদিকে উত্তরপ্রদেশেও মাঝে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়। এরপরই দিল্লি থেকে তলব করা হয় যোগীকে। এক সময় মনে হয়েছিল যে শীর্ষ নেতৃত্ব হয়ত যোগীর বিকল্প কাউকে খোঁজা শুরু করে দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, এখনও বিজেপিরই নানান বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট।

আরও পড়ুন- সুখবর! খুচরো বাজারে এবার কমবে ভোজ্য তেলের দাম, আমদানি শুল্ক কমাল কেন্দ্র

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে আগে রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখা খুব দরকার। এটা বিজেপি ভালোমতো জানে। আর এই কারণেই রাজ্যগুলি যাতে হাতছাড়া না হয়ে যায় তাই শীর্ষ নেতৃত্বে বদল আনা হচ্ছে। সব বিতর্ক পেরিয়ে আনা হচ্ছে নতুন মুখকে নতুন উদ্যমে কাজ করার তাগিদে। ক্ষমতা ধরে রাখাই এখন গেরুয়া শিবিরের একমাত্র লক্ষ্য।

You might also like
Comments
Loading...