দেশ

যুদ্ধের জন্য তৈরি ‘নাগ’, পোখরানে সফল ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইলের উৎক্ষেপণ

বুধবার তখন সকাল ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট। পোখরানের ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয় নাগ অ্যান্টি ট্যাংক গাইডেড মিসাইলটির। সকলের প্রত্যাশাকে বজায় রেখেই নির্ভুলভাবে নিজের লক্ষ্যে আঘাত হানে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি। প্রতিরক্ষা গবেষণাও উন্নয়ন সংস্থার খবর অনুযায়ী পরিস্থিতি বুঝেই ওই জমি থেকে ছোঁড়া হয় এই মিসাইল। ৪ থেকে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে নিশানায় আছড়ে পড়ে ‘নাগ’। ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে শত্রু ফৌজের ট্যাংক খুঁজে বের করে সেটির উপর সাপের মতোই ফণা তোলার শক্তি রাখে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি।

গত সেপ্টেম্বরে বালাসোরের এপিজে আব্দুল কালাম টেস্টিং রেঞ্জ থেকে এই হাইপারসনিক টেস্ট ডেমনস্ট্রেটর ভেহিকেলটি উৎক্ষেপণ করে ভারত। বর্তমানে বিশ্বের তিনটি দেশ আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার কাছেই এই প্রযুক্তি ছিল। এখন থেকে এই তালিকায় নিজের নামও সামিল করল ভারত।

উল্লেখ্য, লাদাখ সীমান্তে চীনের আগ্রাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে কোনওভাবেই সম্প্রসারণ নীতি থেকে পিছু হটবে না ওই দেশ। তাই আগেভাগেই যুদ্ধের প্রস্তুতি সেরে রাখছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সকলেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারত শান্তি চায়। কিন্তু ভারতের উপর আঘাত হানলে তাঁর জবাব কীভাবে ফিরিয়ে দিতে হয়, তা ভালভাবেই জানে ভারত। তাই পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ করার জন্য ভারতীয় ফৌজকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত ২ মাসে ১০টিরও বেশী মিসাইল পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যে পরোক্ষভাবে চীনকেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট। এই মিসাইলগুলির মধ্যে রয়েছে আণবিক অস্ত্রবহনে সক্ষম অগ্নি, ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল নাগ। তবে আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ করতে নারাজ ভারত। কিন্তু উল্টোদিক থেকে যদি হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে ভারতীয় ফৌজ চীনকে যে পাল্টা জবাব দেবে, তা চীনের জন্য মোটেই সুখপ্রদ হবে না।

Related Articles

Back to top button