সব খবর সবার আগে।

১৫১টি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের বেসরকারিকরণ! কেন্দ্রের কোষাগারে আসতে চলেছে ৩০ হাজার কোটি টাকা

বিভিন্ন ট্রেনের বেসরকারিকরণের উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকার করোনা সংক্রমণের অনেক আগেই গ্রহণ করেছিল। এমনকি কিছু এক্সপ্রেস ট্রেন ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থার হাতে চলে গেছে। এরপর প্যাসেঞ্জার ট্রেনগুলিকেও বেসরকারি হাতে তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বুধবার ১০৯ জোড়া রুটে ১৫১গুলি আধুনিক ট্রেন চালাতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে অনুরোধ আমন্ত্রণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় যদি কেন্দ্রীয় সরকার সফল হয় তবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজকোষে ঢুকবে।

ভারতীয় রেলে প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে এটাই প্রথম বেসরকারি বিনিয়োগ। অবশ্য এক্সপ্রেস ট্রেনকে এর আগেই বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গত বছর আইআরসিটিসির দিল্লি-লখনউ তেজস এক্সপ্রেস দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রেনের বেসরকারিকরণ শুরু হয়। বর্তমানে আইআরসিটিসি বারানসী ইন্দোর রুটে কাশী মহাকাল এক্সপ্রেস, দিল্লি-লখনৌ রুটে তেজস এক্সপ্রেস এবং আহমেদাবাদ-মুম্বই রুটে তেজস এক্সপ্রেস এই তিনটি ট্রেন চালায়।

তবে রেলের এই বেসরকারিকরণ নিয়ে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। যার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য রেলে আধুনিক টেকনোলজির সাহায্যে মানুষকে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া , যাতে পরিবহণের সময় কম লাগে এবং যাত্রী নিরাপত্তাও ভালো ভাবে দেওয়া যায়। এছাড়া বেসরকারিকরণের মাধ্যমে দেশের কর্মসংস্থানের জন্য চাকরির সুযোগও বাড়বে বলে মনে করছে রেল মন্ত্রক।

বর্তমানে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ১০৯ জোড়া রুটকে নির্দিষ্ট করে তাকে ১২ টি ক্লাস্টারে ভাগ করেছে রেল মন্ত্রক। এই নতুন ট্রেনগুলিতে ১৬ টি করে কোচ থাকবে। রেলের তরফে বলা হয়েছে, বেসরকারি সংস্থার হাতে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, ট্রেনগুলিকে ভারতেই তৈরি হতে হবে। পাশাপাশি নতুন ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ কিমি হবে।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৩৫ বছরের জন্য এই চুক্তি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই চুক্তির পরিবর্তে বছরে নির্দিষ্ট চার্জ দেবে বেসরকারি সংস্থা। এমনকি আলাদা করে দিতে হবে বিদ্যুতের খরচও। তবে ট্রেনের চালক ও গার্ড থাকবেন ভারতীয় রেল থেকেই।

প্রসঙ্গত, করোনা সংক্রমণের আগে পর্যন্ত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা যেমন, আরকে ক্যাটারিং, আদানি পোর্ট, মেক মাই ট্রিপ, ইন্ডোগো, ভিস্তা, স্পাইস জেটও বেসরকারিকরণের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এই মহামারীর চলতে তাদের বর্তমান মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। এছাড়াও অ্যালস্টম ট্রান্সপোর্ট, বোম্বার্ডিয়ারের মতো সংস্থা এ ব্যাপারে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

You might also like
Leave a Comment