সব খবর সবার আগে।

চেনেন ‘কালী’ কে? জানেন কেন‌ও দুই শত্রুরাষ্ট্র ভারতের ভয়ে কাঁপে? এ এমন এক শক্তি যা ভারত ভিন্ন অন্য কোথাও নেই। দেখে নিন।

রক্তক্ষয়ী ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের পর ক্রমে জোরালো হচ্ছে যুদ্ধ সম্ভাবনা। এই সংঘাতে ভারতের ২০ জন জাওয়ান শহীদ হন। তারপর থেকে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশই নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে। অনেকেই হয়তো ভাবেন ভারত-চীন যুদ্ধে যদি হয় তাহলে বেশি শক্তিধর দেশ হিসেবে এগিয়ে থাকবে চীন‌ই। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এই মুহুর্তে সামরিক দিক থেকে যুদ্ধ হলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে চীন।

হ্যাঁ, কারণ ভারতের হাতে আছে এমন এক শক্তিশালী ক্ষেপনাস্ত্র যা আর অন্য কোন‌ও দেশের কাছেই নেই। এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থলপথে তো বটেই আকাশপথেও একইসঙ্গে শত্রুর মোকাবিলা করতে সক্ষম। এরই নাম ‘কালী’।

বিশ্বের প্রতিটি দেশই যখন লেজার অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটছিলো, তখন ভারত ঠিক করে লেজারের থেকেও শক্তিশালী কোন অস্ত্র তৈরি করবে। তারপর ১৯৮৫ সালে প্রথম উন্নতমানের এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয়। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন এই অস্ত্রটির নাম রাখা হয় ‘কালী’। পুরো নাম ‘কিলো অ্যাম্পিয়ার লিনিয়ার ইঞ্জেক্টর’। ভারতের আকাশে ঢোকার আগেই যেকোনো মিসাইলকে টুকরো টুকরো করে দিতে সক্ষম এই ‘কালী’। যে কোন‌ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমানকেও চোখের নিমেষে ধ্বংস করে দিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের জুড়ি মেলা ভার।

প্রসঙ্গত ‘কালী’ প্রথমদিকে দুর্বল ছিলো।পরবর্তীকালে শক্তি বৃদ্ধি করা হয়। আর শক্তি বৃদ্ধির পর এটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে মহাকাশে ভাসমান যে কোন‌ও কৃত্রিম উপগ্রহকেই মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে।

সামরিক মহলের খবর অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্রের চেয়ে কোন‌ও অংশে কম নয় এই শক্তিশালী ভয়ঙ্কর অস্ত্র ‘কালী’। আর এই ‘কালী’র আতঙ্কেই ভয়ে তটস্থ ভারতের দুই প্রতিবেশী শত্রু দেশ চীন ও পাকিস্তান।

কিভাবে কাজ করবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি?

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোন‌ও দেশ যদি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে তখন ‘কালী’ প্রচন্ড গতিতে ছুটে যাবে সেই অস্ত্রের দিকে এবং ওই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে লক্ষ্য করে অসংখ্য ইলেকট্রন কণা ছুঁড়তে থাকবে। তারপর এই ইলেকট্রন কণাগুলি বিকিরণ পদ্ধতিতে মাইক্রোওয়েভ বিকিরণে পরিণত হবে। এই মাইক্রোওয়েভ বিকিরণগুলি ভারতের দিকে ছুটে আসা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দেবে।

লেজারের অস্ত্রের থেকে কোন ক্ষেত্রে উন্নত এই ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি ?

যে কাজ ‘কালী’ করে সেই একই কাজ লেজার অস্ত্রও করে‌। কিন্তু উভয়ের কাজের মধ্যে পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। লেজার অস্ত্র প্রয়োগ করা হলে লেজার অস্ত্র থেকে নির্গত রশ্মি ক্ষেপণাস্ত্র কতগুলি ছিদ্র তৈরি করে। ওই ছিদ্রগুলি একটা সময় ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। এই কাজটি করতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে। অপরদিকে কালী’র থেকে নির্গত মাইক্রোয়েভ বিকিরণ মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে। অতএব কালি অনেক অল্প সময়েই কার্যসিদ্ধি করতে সক্ষম, লেজার অস্ত্র সেই একই কাজে অনেকখানি সময় নিয়ে ফেলে।

You might also like
Leave a Comment