সব খবর সবার আগে।

ধর্ষণ হলে ঘুমিয়ে পড়া কার্যত অসম্ভব! নির্যাতিতার বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় ধর্ষণে অভিযুক্তকে অগ্রিম জামিন কর্ণাটক হাইকোর্টের!

আপনার সঙ্গে ধর্ষণ হল, আর তারপর‌ই আপনি ঘুমিয়ে পড়লেন অভিযোগকারিনীকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিল হাইকোর্ট। কারণ বিচারকদের মতে এরূপ আচরণ ভারতীয় নারীদের ব্যবহারের সঙ্গে খাপ খায় না। সম্প্রতি কর্নাটক হাইকোর্ট ধর্ষণের মামলায় এক অভিযুক্তকে অগ্রিম জামিন দিয়েছে। অভিযোগকারিনীর বয়ানের বিষয় নানা প্রশ্ন তুলেছে আদালত। ধর্ষণের পর মহিলা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, মহিলার বয়ানের এই অংশ নিয়েই প্রধান আপত্তি আদালতের।

এই মামলায় ওই মহিলা দাবি করেন তাঁকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করেছে অভিযুক্ত। কিন্তু ঘটনার গতিপ্রকৃতি বিচার করে মহিলারা আনা সেই দাবি নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছে আদালত। অভিযোগকারিনী মহিলা গত দুই বছর ধরে কাজ করছিলেন অভিযুক্তের হয়ে। বিচারপতি কৃষ্ণ দিক্ষিতের প্রথম প্রশ্ন কেনও ওই মহিলা রাত ১১ টার সময় অফিস গিয়েছিলেন, সেটার কোনও উল্লেখ তিনি করেননি। এরপর অভিযুক্তের সঙ্গে মদ্যপান করায়‌ও আপত্তি জানাননি তিনি। তাঁকে মহিলা সারা রাত নিজের সঙ্গে থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন।

বিচারপতির দাবি যে ধর্ষণের পর ক্লান্ত হয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়ার যে কারণ ওই মহিলা দেখিয়েছেন এটা ভারতীয় মহিলাদের আচরণের সঙ্গে মানায় না বলেই তাঁর মত। অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করে বিচারপতি বলেন ধর্ষণ হওয়ার পর এই রকম স্বাভাবিক ব্যবহার করে না মহিলারা। ৪২ বছরের ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি গুরুতর, এটা মেনে নিয়েও আদালতের বক্তব্য যে শুধু সেটার জেরে কোনও ব্যক্তির স্বাধীনতা খর্ব করা যায় না, যেখানে পুলিশের থেকে কোনও তথ্য মিলছে না।

একটি চিঠির প্রসঙ্গেও উঠে আসে শুনানিতে। যেখানে বছর ২৭ বছর বয়সি অভিযোগকারিনী বলেছেন যে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেবেন এই কেস সমঝোতা হয়ে গেলে। মহিলার দাবি যে আগে থেকেই যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তার ওপর জোর করা হচ্ছিল। আদালতের প্রশ্ন যে তখন কেন‌ও আইনি পথ নেননি অভিযোগকারিনী।

মহিলা ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি হোটেলে খানাপিনা করে গাড়িতে উঠেছিলেন। এই পুরো সময় ধরে কেনও মহিলা পুলিশ বা আসেপাশের জনতাকে এই ব্যক্তির বিষয় অবহিত করাননি, সেই প্রশ্নও করেছে আদালত। এই সব আপাত অসঙ্গতির জেরে ১ লাখ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অগ্রিম জামিন দিয়েছে কর্নাটক আদালত।

You might also like
Leave a Comment