দেশ

জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু কাশ্মীরি পণ্ডিতের, কাশ্মীরে বিক্ষোভ পণ্ডিত সম্প্রদায়ের, প্রতিবাদে সামিল মুসলিমরাও

গতকাল, বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগামে সরকারি অফিসের মধ্যেই জঙ্গিদের গুলিতে খুন হন সরকারি কর্মী কাশ্মীরি পণ্ডিত রাহুল ভাট। তাঁর মৃত্যুতে গোটা কাশ্মীর উত্তাল। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন উপত্যকার মানুষ। নানান জায়গায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন তারা।

কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই অভিযোগ জানাচ্ছেন হাজার হাজার সরকারি কর্মী ও কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের মানুষ। পুলিশ এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়। এমনকি কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোঁড়া হয়।  

২০১০ সালে সরকারের তরফে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য একটি বিশেষ কর্মসংস্থান প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এই প্যাকেজের জেরে নব্বইয়ের দশকে যেসমস্ত কাশ্মীরি পণ্ডিতরা কাশ্মীরে নিজের বাসস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের চাকরি দেওয়া হয়। এই প্যাকেজের লক্ষ্য ছিল তাদের উপত্যকায় পুনর্বাসন দেওয়া। খুন হওয়া রাহুল ভাট-ও এই আওতায় চাকরি পেয়েছিলেন।

কিন্তু সরকারি অফিসের মধ্যেই জঙ্গিদের পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ছোঁড়া গুলিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এরপরই ট্রানসিট ক্যাম্পে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই জায়গায় জায়গায় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তারা। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার পাশাপাশি বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তারা।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-য়ের তরফে একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করছে। প্রতিবাদী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা বুদগামের এয়ারপোর্ট রোডের দিকে অগ্রসর হলে তাদের উপ কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোঁড়া হয় বলে দেখা গিয়েছে এই ভিডিও ক্লিপে।

তবে তাও বিক্ষোভের আঁচ কমেনি। প্রতিবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে পুলিশ যদি সাধারণ মানুষের উপর লাঠিচার্জ করতে পারে, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়তে পারে, তাহলে জঙ্গিদের কেন ধরতে পারছে না? কাশ্মীরি পণ্ডিতদের এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরাও। এমনকি, উপত্যকার অন্য অংশের মুসলিমদেরও তারা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পাশে থাকার বার্তা দেন।

Related Articles

Back to top button