দেশ

কলকাতার টেরিটি বাজারের অস্তিত্ব সংকটে, ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হল ভারতের প্রথম চায়না টাউনকে

ভারত এক সুপ্রাচীন দেশ। এই দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে কত ইতিহাস। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক তাৎপর্যপূর্ণ কিছু স্থান যেন ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে একটি হল কলকাতার টেরিটি বাজার, যা ওল্ড চায়না টাউন নামেও পরিচিত। এবার এই স্থানকে ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচ তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়ার্ল্ড মনুমেন্টস ফান্ড জানিয়েছে, “এই বছর অসাধারণ তাৎপর্যপূর্ণ ২৫ টি ঐতিহ্যবাহী স্থানকে সামনে আনা হয়েছে। ওয়াচ ২৪ টি দেশ এবং ১২,০০০ বছরের ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভারসাম্যহীন পর্যটন, কম প্রচারইসহ বিবিধ সংকটের সম্মুখীন ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলিকে রক্ষার জন্য বৃহত্তর এবং জরুরি পদক্ষেপ নেয় এই সংস্থা”।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by World Monuments Fund (@worldmonumentsfund)

আসুন জেনে নেওয়া টেরিটি বাজারের ইতিহাসঃ

এই জায়গাটিকে ভারতের প্রথম চায়নাটাউন বলা হয়। আঠারোর শতকে ইন্দো-চীন বাণিজ্য পথে চৈনিক নাবিকরা এখানে বসতি স্থাপন করেন। তখন থেকেই তারা নিজেদের আচার অনুষ্ঠান, ঐতিহ্য, স্থাপত্য শৈলী প্রতিষ্ঠা করেন এই জায়গায়। তখন থেকেই এই জায়গাটি চৈনিক পরিচয় পেতে করতে শুরু করে। এই বাজারটির নামকরণ হয়েছে এডওয়ার্ড টিরেটার নামে।

এডওয়ার্ড টিরেটার ভেনিসের একজন ইতালীয় অভিবাসী এডওয়ার্ড ১৮ শতকে এই এলাকার মালিক ছিলেন। তবে এই তালিকায় টেরিটি বাজারের অন্তর্ভুক্তির কারণ সম্ভবত এখানে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রান্তিকতা। স্থানীয় ঐতিহ্যও সংকটে রয়েছে এই জায়গা। একসময় প্রায় ২০ হাজার চিনা নাগরিকের বাসস্থান ছিল এই জায়গাটি। তবে বছরের পর বছর ধরে এই জনসংখ্যা ক্রমেই হ্রাস পেয়েছে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Kolkata Road Forkers (@kolkata_road_forkers)

এই ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ড-এর সদর দফতর নিউ ইয়র্কে। তবে কম্বোডিয়া, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, ভারত, স্পেন, পেরু, নানান জায়গায় তাদের অফিস ও সহযোগী সংস্থা রয়েছে।

এই টেরিটি বাজার ছাড়াও এই বছরের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিপন্ন স্থানগুলি হল-

  • জাহাঙ্গিরের সমাধি, লাহোর, পাকিস্তান
  • বাগেরহাটের মসজিদ শহর, বাগেরহাট, বাংলাদেশ
  • আবিডোস, মিশর
  • বেনগাজি ঐতিহাসিক শহর, লিবিয়া
  • গার্সিয়া চারণভূমি, ব্রাউনসভিল, টেক্সাস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  • আফ্রিকাটাউন, মোবাইল, আলাবামা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
  • হার্স্ট ক্যাসেল, হ্যাম্পশায়ার, যুক্তরাজ্য
  • বেইরুটের ঐতিহ্যবাহী ভবন, লেবানন

Related Articles

Back to top button