সব খবর সবার আগে।

অন্ধ্রপ্রদেশে আগুনে ভস্মীভূত শতাব্দী প্রাচীন রথ, ‘হিন্দুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ দাবি বিশিষ্ট মহলের!

অন্ধ্রপ্রদেশে পূর্ব গোদাবরী জেলায় অন্তরবেদীর লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দিরে শতাব্দীপ্রাচীন কাঠের রথ (Chariot) গত রবিবার অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়ে যায়। রিপোর্ট অনুসারে জানা যায় যে, মন্দিরের বাইরে রাখা এই রথে কিছু দুষ্কৃতী আগুন (Fire) লাগিয়ে দিয়েছে। অন্ধপ্রদেশ সরকার গোটা ঘটনাটির তদন্তভার তুলে দিয়েছে সিবিআইয়ের (CBI) হাতে।

এলাকার সমাজকর্মীরা বলছেন, হিন্দু ভাবাবেগে (Hindu Sentiment) আঘাত করাই এই ঘৃণ্য কাজ এর প্রধান উদ্দেশ্য। সহকারী পুলিশ কমিশনারকে প্রসাদ জানিয়েছেন, গোটা ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

প্রতিবছর এপ্রিল মাসের কল্যাণোৎসবে এই রথ প্রধান দেবতাকে নিয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গোটা ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ অন্ধপ্রদেশের মানুষজন। রাজ্যের বিরোধী দল এবং হিন্দু সংগঠনগুলি ওয়াইএসআর কংগ্রেস শাসিত সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও জনসেনা দল মন্দিরের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে বহিষ্কার করার জন্য দাবি জানিয়েছে।

হিন্দুত্ববাদীদের (Hindu Activists) দাবি, ঘটনার পিছনে কোন গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করেছে।তারা অন্ধপ্রদেশ সরকারকে দোষারোপ করে জানিয়েছে যে, যখনই কোন হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ হয় তখনই সরকার অজুহাত দেখিয়ে গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে দেয়।

নেল্লোর জেলাতেও একই ভাবে রথের উপর যখন হামলা হয়েছিল তখন পুলিশ জানিয়েছিল, কয়েকজন মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তি এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। এখন এই ক্ষেত্রে পুলিশ কারণ দেখাচ্ছে যে, শর্ট সার্কিট এর জন্যেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু অন্ধপ্রদেশ, তামিলনাড়ুতে এইভাবে একের পর এক হিন্দু মন্দিরে পরিকল্পনা করেই আক্রমণ হানা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বিরোধীদলের প্রবল প্রতিবাদ এর সামনে পড়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি (Jagan Mohan Reddy) গোটা ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়াও মন্দিরের এক্সিকিউটিভ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সরকারের তরফ থেকে একটি প্রাথমিক অনুসন্ধানকারী দল গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে একটি নতুন রথ বানানো হবে যার খরচ পড়বে ৮৪ লক্ষ টাকা। যে রথটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই রথটি এই মূল্যের ছিল। যদিও গোটা ঘটনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্রুদ্ধ অন্ধপ্রদেশের মানুষজন। তারা এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

You might also like
Comments
Loading...
Share