দেশ

‘একদল মানুষের থাকারই জায়গা নেই, আর একটি দল চুরির মাল রাখার জায়গা পাচ্ছে না’, স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে কাকে নিশানা করলেন মোদী?

৭৫তম স্বাধীনতার (Independence Day) বর্ষপূর্তিতে লালকেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। এদিন দেশের অগ্রগতির জন্য পঞ্চ সংকল্পও নেন তিনি। এদিন তাঁর ভাষণে উঠে আসে নানান দুর্নীতির (corruption) প্রসঙ্গও। মোদীর কথায়, “একদল মানুষের থাকারই জায়গা নেই, সেখানে আর একটি দল চুরি করা মাল রাখার জায়গা পাচ্ছে না”। এর থেকেই এবার প্রশ্ন উঠেছে যে নিজের এই ভাষণের মাধ্যমে ঠিক কাকে বা কাদের নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী?

এদিন নিজের ভাষণের শুরুতে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানান মোদী। দুর্নীতি প্রসঙ্গ মোদী বলেন, “দেশের পরিস্থিতি ভাল নয়। ভারতের মতো গণতন্ত্রে যেখানে মানুষ প্রত্যেক মুহূর্তে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করছে, যেখানে একদল মানুষের থাকারই জায়গা নেই, সেখানে আর একটি দল চুরি করা মাল রাখার জায়গা পাচ্ছে না”।

মোদী যখন এই বক্তব্য রাখেন, ঠিক  এর কিছুদিন আগেই দেশের নানান নেতা-মন্ত্রী-আমলাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হিসাব বহির্ভূত অর্থ উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গও। এই কারণে স্বাধীনতা দিবসে মোদীর এই ভাষণ যে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনটাই মন করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সম্প্রতিই মহারাষ্ট্রে সঞ্জয় রাউতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েক লক্ষ হিসাবহীন নগদ উদ্ধার করেছে বলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি দাবি করেছে। তার আগে বাংলায় এসএসসি দুর্নীতি মামলায় নেতা-মন্ত্রী-বিধায়কদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়েছে ইডি। অভিযান চালানো হয়েছে বাংলার প্রাক্তনমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও।

পার্থর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাট থেকে ইডি উদ্ধার করেছে ৫০ কোটি টাকা ও কোটি কোটি টাকার সোনা। এই মুহূর্তে বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় রয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেলে। আবার ঝাড়খণ্ডের তিন কংগ্রেস বিধায়কের গাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছে ৫০ লক্ষ টাকা। তবে নিজের ভাষণে কোনও বিশেষ রাজ্য বা নেতা-মন্ত্রীর নাম নেন নি মোদী।

এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের পূর্ণশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে। গত আট বছরে আমরা সে কাজে সফলও হয়েছি”। মোদীর কথায়, “ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের সাহায্যে আধার-মোবাইল এবং অন্য আধুনিক ব্যবস্থা প্রয়োগ করে লক্ষ কোটি টাকা ভুল হাতে যাওয়া থেকে বাঁচানো গিয়েছে”। তিনি এও বলেন যে সেই টাকা দেশের ভালো কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিরোধীদের দাবী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে দিয়ে তাদের হেনস্থা করানো হচ্ছে। এর জবাবে মোদী এদিন বলেন, “যারা আগের সরকারে ব্যাঙ্ক লুট করে পালিয়ে গিয়েছে, তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে করে টাকা ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। যাঁরা দেশের টাকা চুরি করেছেন, তাঁদের টাকা ফেরাতে বাধ্য করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভারত কড়া অবস্থান নিচ্ছে। দেখে ভাল লাগছে, এখন দেশে দুর্নীতি-বিরোধী একটা মনোভাবও তৈরি হয়েছে”।

এদিন প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি প্রসঙ্গে বক্তব্য শেষ করার আগে আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, “মনে রাখতে হবে, যত ক্ষণ না সমাজে খারাপের প্রতি ঘৃণাবোধ তৈরি হচ্ছে, তত ক্ষণ ভাল এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তির চেতনাও জাগ্রত হবে না। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে”।

Related Articles

Back to top button