সব খবর সবার আগে।

Netaji Birth Anniversary: নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য! শেষ পর্যন্ত ঠিক কী হয়েছিল দেশনায়কের? এখনও অধরা এই প্রশ্নের উত্তর

নেতাজি! নামটাই যথেষ্ট এক বাঙালির গর্ববোধের জন্য। নেতাজি ঠিক যতটা বাঙালির, ঠিক ততটাই গোটা দেশের ও গোটা বিশ্বের। তিনিই শিখিয়েছিলেন কোনও লক্ষ্যে যদি পৌঁছতে হয়, তবে নিজের আশা আকাঙ্ক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে প্রাণত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। এখনও বিশ্বের সামনে এক মহীরুহ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এই দেশনায়ক, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

আজ তাঁর জন্মবার্ষিকী। আপামর বাঙালির কাছে এই দিনটি যতটা গর্ববোধের, ঠিক ততটাই হয়ত কষ্টের। এই মহান দেশনায়কের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে উপনীত হয়েও এখনও তাঁর অন্তর্ধান রহস্য আমাদের কাছে অধরা। শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল নেতাজির? যে দেশকে স্বাধীন করতে তাঁর এত আত্মত্যাগ, এত প্রচেষ্টা, সেই স্বাধীন দেশে কী কখনও পা রাখতে পেরেছিলেন তিনি? নাকি হয়ত ফিরেছিলেন কোনও ছদ্মবেশে? নাকি কোন এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর? এই কোনও প্রশ্নেরই সঠিক জবাব মেলেনি এখনও পর্যন্ত।

২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্টেট আর্কাইভের নেতাজি সম্পর্কের সমস্ত ‘গোপন ফাইল’ প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায় ১৯৫৪-১৯৭৪এর মধ্যে নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে ১০টি তদন্ত হয়। এই সবকটি তদন্তেই দাবী করা হয় যে ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগস্ট তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় নেতাজি। তবে আবার, ২০০৫ সালে বিচারপতি মুখোপাধ্যায় তদন্ত কমিশনের দাবী যে ১৯৪৫এর ১৮ই আগস্ট তাইহোকুর বিমান ঘটনার কোনও প্রমাণ নেই বা তাইপের সিটি আর্কাইভে ওইদিন তাইপেতে কোনও বিমান দুর্ঘটনার কথা উল্লেখও করা নেই।

তবে জানা যায় যে নেতাজির প্রয়াণ ও শেষকৃত্যের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন দু’জন, হাবিবুর রহমান ও জুইচি নাকামুরা। ১৯৫৬ সালে শাহনওয়াজ কমিটির সামনে তাঁরা দাবী করেন যে  ১৯৪৫ সালের ২০শে আগস্ট নেতাজির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ও তারপর দিন তাঁরা নাকি নেতাজির দেহভস্ম সংগ্রহ করেন। তবে নেতাজির ডেথ সার্টিফিকেট কখনও উদ্ধার করা যায়নি।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ছিলেন নেতাজির বিরাট গুণগ্রাহী। ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞের তৈরি একটি ফরেন্সিক ফেস-ম্যাপিং রিপোর্টের দাবী, ১৯৬৬ সালেও নাকি নেতাজি বেঁচে ছিলেন। সেই বিশেষজ্ঞের দাবী, তাসখন্দে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর একটি ছবিতে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কিছু মানুষের মধ্যে একজনকে দেখা যায়, যার সঙ্গে নেতাজির মুখের অদ্ভুত মিল। এই ঘটনার কথা লালবাহাদুর শাস্ত্রী নাকি নেতাজির পরিবারকে জানিয়েওছিলেন।

এরপর নরেন্দ্রনাথ সিন্দকর নামের এক লেখক একটি এফিডেভিট ফাইল করে যাতে বলা ছিল বিপ্লবী বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে ও তাঁর স্ত্রী নাকি সেই ১৯৪৫-এর তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনার প্রায় ২৩ বছর পরেও সাইবেরিয়ার একটি শহরে নেতাজির দেখা পান। এফিডেভিট অনুযায়ী, নেতাজি দেশে ফিরতে চাননি। তাঁর ধারণা ছিল, দেশে ফিরলে তাঁকে যুদ্ধ অপরাধী ঘোষণা করা হতে পারে। আবার ফ্রান্সের সিক্রেট সার্ভিস রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৪৭এও নাকি নেতাজি বেঁচেছিলেন।

আবার অনেকেই মনে করেন নেতাজি ভারতে ফিরেছিলেন। অযোধ্যার ফৈজাবাদে তিনি সন্ন্যাসীর জীবন কাটান। সেখানে তিনি গুমনামী বাবা নামে পরিচিত ছিলেন ও ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। অনেকের ধারণা, ১৯৬৪ স্লাএর ২৭শে মে জওহরলাল নেহরুর অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠানে নেতাজি উপস্থিত ছিলেন ও তাঁর পরনে ছিল সাধুর পোশাক।

আজও পর্যন্ত নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য বা তাঁর মৃত্যু রহস্য দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হত্যা রহস্য হয়েই থেকে গিয়েছে। এর মীমাংসা হয়নি বা ভবিষ্যতে আদৌ কোনও মীমাংসা হবে কী না, তাও অনিশ্চিত। তবে নেতাজির মৃত্যু সম্পর্কে সঠিক কোনও ধারণা না মিললেও তিনি চির অমর। তিনি এখনও প্রবলভাবে বেঁচে রয়েছেন দেশবাসীর মনের মধ্যে, আর যুগ থেকে যুগান্তরেও তিনি এইভাবেই বাঙালি তথা গোটা দেশবাসীর কাছে এভাবেই অমর হয়ে থাকবেন।

You might also like
Comments
Loading...