সব খবর সবার আগে।

১০০ কোটিতেই লড়াই শেষ নয়, সামনে এখনও অনেক বড় চ্যালেঞ্জ! পরবর্তী কোন কোন লক্ষ্যের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র?

প্রথম বিশ্বের দেশগুলি যে কাজ পারেনি, তৃতীয় বিশ্বের দেশ হয়ে ভারত সেটা করে দেখিয়েছে। ১০০ কোটি টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে দেশে। চলতি বছরের শুরুতে টিকাকরণের যে কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, তার প্রথম ধাপ পূরণ হয়েছে আজ।

এক বছর আগেও চিত্রটা একেবারে অন্যরকমই ছিল। করোনার একের পর এক ঢেউয়ের  জেরে বিপর্যস্ত হয়েছিল ভারত তথা গোটা বিশ্ব। কিন্তু মনোবল হারান নি গবেষক, বিজ্ঞানীরা। শুরু হয়ে গিয়েছিল টিকা তৈরির কাজ। বছরের শেষেই কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল দুটি টিকা – কোভিশিল্ড ও কো-ভ্যাক্সিন।

চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি এক নতুন ইতিহাস গড়ার দিকে পা বাড়ায় ভারত। মাত্র ৩৪ দিন অর্থাৎ ১৯শে ফেব্রুয়ারির দিনই দেশে দেওয়া হয়ে যায় ১ কোটি টিকা। এরপর ৮৫ দিনের মাথায় ১০ কোটি টিকাকরণের গণ্ডি পেরোয় ভারত।

১০০ কোটি টিকাকরণের লক্ষ্যে পৌঁছনোর যাত্রাপথ ততটা সহজ ছিল না। টিকাকরণের প্রথমেই বলে দেওয়া হয়েছিল যে টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাবেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, ও প্রথম সারির করোনা যোদ্ধারা। তবে টিকা নিয়ে অনেক মানুষের মধ্যেই বেশ কিছু সংশয় ছিল। তবে ধীরে ধীরে তা অনেকটাই কাটানো সম্ভব হয়েছে।

দেশে ৫০ কোটি টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা পার হয় টিকাকরণ কর্মসূচির ২০৩ দিনের মাথায়। ২৬০ দিনের মাথায় অর্থাৎ ২রা অক্টোবরের দিন ৯০ কোটি টিকাকরণের গণ্ডি পেরোয় ভারত।  গত মঙ্গলবার ৯৯ কোটি টিকাকরণ হয়ে যায় দেশে। এরপর আজ, বুধবার আসে সে মাহেন্দ্রক্ষণ। সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে ১০০ কোটি টিকাকরণের গণ্ডি পার করে ভারত। পূর্ণ হয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য।

তবে লড়াই এখানেই শেষ নয়, এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি রয়েছে। সামনে আরও বড় দুটি লক্ষ্য। প্রথমটি হল, দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের করোনা টিকাকরণ। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ জনগণই করোনা টিকার প্রথম ডোজ় পেয়ে গিয়েছেন। বাকি রয়েছেন এখনও ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। এই সংখ্যাটাই পূরণ করার জন্য মোট ১৯০ কোটি টিকা প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি দেশের সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের করোনা টিকা দিতে হয়, তাহলে প্রতিদিন ১ কোটি টিকা দিতে হবে।

এরইসঙ্গে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল ১৮ অনুর্ধ্বদের টিকাকরণ। প্রাপ্তবয়স্করা টিকা পেলেও এখনও দেশে শিশু ও নাবালকদের জন্য টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়নি। চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের শুরুতেই শিশুদের টিকাকরণের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। অনুমোদন মিললেই জোরকদমে শুরু করা হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই টিকাকরণও। শিশু ও নাবালকদের মিলিয়ে মোট ২৭০ কোটি টিকা দিতে হবে।

You might also like
Comments
Loading...