দেশ

মিটেও মিটছে না মরু রাজনীতির নাটক! প্রাক্তন ডেপুটিকে নিষ্কর্মা, পিছন থেকে ছুরি মেরেছেন বলে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর!

নাটক চলছেই রাজস্থানে। একদিকে হাইকোর্টে প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটের বিধায়কপদ খারিজের মামলার শুনানি যখন চলছে তার মধ্যেই নিজের প্রাক্তন ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রীকে নজিরবিহীন আক্রমণ হানলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। তাঁর গুরুতর অভিযোগ, নিজের নিরীহ চেহারার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসকে পিছন থেকে ছুরি মেরেছেন পাইলট।

সোমবার ডাকা এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের বক্তব্য “শচীন পাইলট যে খেলাটা খেলল সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এত নিরীহ চেহারা। কেউ বিশ্বাসই করতে পারেন না, এই লোকটা এমন করতে পারে। বিজেপির সঙ্গে মিলে গত ৬ মাস ধরে কংগ্রেস সরকারকে ফেলার চেষ্টা করছিল। ৭ বছর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিল। কিন্তু কোনওদিন ওর বিরুদ্ধে কেউ কোনও প্রশ্ন তোলেনি। আমরা জানতাম ওর আমলে কোনও কাজ হচ্ছে না। কিন্তু তবু ওকে নিয়ে কোনও প্রশ্ন আমরা করিনি। ভেবেছিলাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির এটুকু সম্মান প্রাপ্য। কিন্তু ও আমাদের পিছন থেকে ছুরি মারল।” অনেকেই বলছেন গেহলটের এই মন্তব্যের পর একটা জিনিস পরিষ্কার, শচীন পাইলটের কংগ্রেসে ফেরার সমস্ত রাস্তাই হয়তো বন্ধ।

অন্যদিকে পাইলট ও অনুগামীদের বিধায়ক পদ বাতিলের মামলার শুনানি এখনও চলছে। মঙ্গলবার এই মামলার চূড়ান্ত রায়দান। তার আগে কংগ্রেস শিবির দাবি করেছে, রাজস্থানের স্পিকার এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি নোটিস পাঠিয়েছেন শুধু। এই নোটিসের ভিত্তিতে প্রত্যেক বিধায়কের যুক্তি শোনা হবে। এবং তারপর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। আর স্পিকার সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত আদালত এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অন্যদিকে, পাইলট শিবির নিজেদের বক্তব্য পেশের জন্য ২২ জুলাই পর্যন্ত সময় চেয়েছে। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারপতি।

তবে এই সমস্ত কিছুর মধ্যেই আবার দুটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গিয়েছে রাজস্থান রাজনীতিতে। এক, গেহলট শিবিরের এক কংগ্রেস বিধায়ক দাবি করেছেন, শচীন পাইলট তাঁকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য ৩৫ কোটি টাকার টোপ দিয়েছিলেন। যাতে রেগে আগুন পাইলট আবার ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করার হুমকি দিয়েছেন। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যেটা ঘটেছে, সেটা হল বিজেপি সভাপত জেপি নাড্ডা এবং সহ-সভাপতি ওম মাথুরের বৈঠক। মাথুর রাজস্থানের রাজনীতি খুব ভাল বোঝেন। তাঁর সাথে নাড্ডার বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Related Articles

Back to top button