দেশ

সাবধান! বেশি যোগ্যতা নিয়ে কম যোগ্যতার চাকরি করলে বরখাস্ত করবে সংস্থা, রায় সুপ্রিম কোর্টের

আমাদের দেশে যেখানে চাকরির অভাব সেখানে অনেকেই উচ্চ শিক্ষিত হয়েও কম যোগ্যতার চাকরিতে আবেদন করেন। অনেকে আবার চাকরিও করেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় গ্রাজুয়েট থেকে শুরু করে পিএইচডি পর্যন্ত মানুষজনও পি‌ওন, বনকর্মী বা অন্যান্য অনেক কম যোগ্যতার চাকরিতে আবেদন করেন। আর এবার এই বিষয়ের ওপরেই বড়োসড়ো রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের (supreme Court) বিচারপতি অশোক কুমার ভূষণ; বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি ও বিচারপতি এম আর শাহ রায়; গতকাল অর্থাৎ বুধবার, একটি মামলায় রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছেন; যোগ্যতা বেশি হলে তা লুকিয়ে আর কম যোগ্যতার চাকরি করা যাবে না।

আর সুপ্রিম কোর্টের এহেন যুগান্তকারী রায় শোনার পর‌ই কপালে ভাঁজ পড়েছে চাকরিপ্রার্থীদের। একে চাকরি নেই, তার ওপর আবার বেশি যোগ্যতা কাজে লাগবে না। কি করবেন বেকাররা? এই রায়ে ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ শুরু করেছেন কোয়ালিফায়েড বেকাররা।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে (Punjab national Bank) পিওনের চাকরি পেয়েছিলেন; অমিত কুমার দাস। কিন্তু লক্ষ্মী লাভ হয়েও পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা। তিনি যে গ্র্যাজুয়েট; সেটা লুকিয়ে চাকরির আবেদন করেছিলেন। নিজের যোগ্যতার তথ্য লুকিয়ে রাখার অভিযোগে; তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে; পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। এর বিরুদ্ধে আদালতে যান; অমিত কুমার দাস।

তবে গতকালের সিদ্ধান্তে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকেই সমর্থন জানিয়েছে উচ্চ আদালত। বিচারপতি অশোক কুমার ভূষণ, বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডি ও বিচারপতি এম আর শাহ, রায় দিতে গিয়ে বলেন; “ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিজ্ঞাপনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল; আবেদনকারী গ্র্যাজুয়েট হওয়া চলবে না”। আদালত বলেছে, “আবেদনকারী নিজের যোগ্যতা গোপন করে; চাকরির জন্য আবেদন করেছেন”। এর ভিত্তিতে দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, “আবেদনকারী ভেবেচিন্তে, ইচ্ছাকৃতভাবে, স্বেচ্ছায় তাঁর যোগ্যতার তথ্য গোপন করেছেন। এটা অন্যায়”।

এই রায় দিতে গিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ; একজন কর্মচারী নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেবেন, এটাই কাম্য। বাস্তবে তিনি বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন; ফলে এই চাকরিতে আবেদন করার যোগ্য তিনি নন। এই রায়ের ফলে, ভবিষ্যতে কম যোগ্যতার চাকরিতে আর বেশি যোগ্যতার যুবকরা আবেদন করতে পারবেন কিনা; সেই নিয়েই উঠে গেছে প্রশ্ন।

এই রায় দানের ক্ষেত্রে, ওড়িশা হাইকোর্টের দুটি রায়‌ও‌ খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ওড়িশা হাইকোর্ট তার রায়ে জানিয়েছিল; ব্যাঙ্ক যেন ওই প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল রাখে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের যুক্তি, “কোনও ব্যক্তি যদি তথ্য গোপন করে যায় অথবা অসত্য তথ্য দেয়; তাহলে সে চাকরিতে বহাল থাকার দাবি জানাতে পারে না”।

Related Articles

Back to top button