দেশ

‘সমাজবাদ’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ভারতীয় সংবিধান থেকে শব্দদুটি বাতিলের মামলা শীর্ষ আদালতে

এবার সংবিধান পরিবর্তনের দাবি উঠল সুপ্রিম কোর্টে। সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে ‘সমাজবাদ’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এই শব্দদুটিকে বাতিল করার আবেদন জমা পড়ল সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনকারীদের বক্তব্য এই দুটি শব্দ ভারতের ঐতিহ্যের সাথে বেমানান এবং বামপন্থী মনোভাবকে প্রকাশ করে।

বলরাম সিং ও করুণেশ কুমার শুক্লা নামের দুই আইনজীবী এবং প্রবেশ কুমার নামে এক জনৈক ব্যক্তি যৌথভাবে সুপ্রিম কোর্টে ওই দুটি শব্দ বাতিলের আবেদন করেছেন। উল্লেখ্য এর আগে ২০১৬ সালেও একইভাবে সংবিধান থেকে এই শব্দদুটি মুছে দেওয়ার দাবি ওঠে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। কিন্তু সেই সময় এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই মামলা গ্রহণ করেনি।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, ভারতীয় সংবিধানে এই দুটি শব্দ কার্ল মার্কসের ভাবধারাকে প্রকাশ করে। কিন্তু তা ভারতের পরিস্থিতির সাথে কিংবা ভারতবাসীর ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে যায় না। তবে স্বাধীনতার প্রাককাল থেকেই ভারতে সব ধর্মের মানুষকেই সমান মর্যাদা দেওয়া হয় এবং সামাজিকভাবেও মানুষকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সংবিধানের প্রস্তাবনার মতো দেশের কোনও রাজনৈতিক দলের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও সংবিধানে ‘সমাজবাদ’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এই শব্দ দুটি থাকা আবশ্যক। সেই বিষয় পরিবর্তনের দাবিতেও সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারীরা আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের মতে দেশের সংবিধানের মতোই রাজনৈতিক দলগুলির সংবিধানেও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ এবং ‘সমাজবাদ’ অপ্রয়োজনীয় তাই সেগুলিকে প্রত্যাহার করা হোক।

উল্লেখ্য, সংবিধানের শুরু থেকে এই দুটি শব্দ সংবিধানের প্রস্তাবনায় ছিল না। পরে ১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২ তম সংশোধনী হিসেবে ২(এ) ধারায় এই দুটি শব্দকে প্রস্তাবনায় যোগ করা হয়। কিন্তু আবেদনকারীদের দাবি, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘সমাজবাদ’ এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দদুটি আসলে সংবিধানেরই অনুচ্ছেদ ১৯(১)(এ) এবং অনুচ্ছেদ ২৫-এর পরিপন্থী। যেখানে, ১৯(১)(এ) ধারায় ভারতবাসীর বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ২৫ নং অনুচ্ছেদে মানুষকে ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আর এই সবকটি অধিকারই মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।

Related Articles

Back to top button