সব খবর সবার আগে।

আজ ১১টায় মোদির, ‘মন কি বাত’-এ উঠে এল করোনা থেকে আমফান,পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা

আজ দেশব্যাপী লকডাউন ৪.০ এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর আজই সকাল ১১টা নাগাদ দেশবাসীর সামনে নিজের বক্তব্য রাখতে প্রধানমন্ত্রী ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন। মানুষ যে একত্রিত হয়ে এই করোনা বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছে তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। এছাড়া করোনার গুরুত্ব থেকে শুরু করে আরোগ্য সেতু অ্যাপ , আয়ুষ্মান ভারত, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশার কথা, রেলের পদক্ষেপ সব কিছুরই প্রসঙ্গে কথা বলেন মোদী।

মন কি অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় আগের থেকে দেশের অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় এদেশে মৃত্যুর হার অনেক কম। কিন্তু এখনও অবধি যারা মারা গেছেন তাদের কথা ভেবে আমি দুঃখিত।’ দেশবাসীরা যেভাবে একে ওপরের পাশে দাঁড়িয়ে একত্রে লড়াই করছেন তাতে তিনি প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রত্যেক দেশবাসী তাদেরকে সেবার কাজে দিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে আমাদের সকলকে আরও বেশি সাবধান হতে হবে। সেবার পাশাপাশি সাবধানতা খুবই জরুরি সমাজকে সুস্থ রাখার জন্য। বহু মানুষ এখন নিজেদের স্বার্থেই নমো অ্যাপের মাধ্যমে অনেক কিছু জানাচ্ছেন। বিপদের সময় দেশবাসীর এই পদক্ষেপ প্রশংসার যোগ্য।’

লকডাউনের জেরে দেশের অর্থনীতির যে বেহাল অবস্থা সেই প্রসঙ্গেও তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াচ্ছে। জেলা-রাজ্য-দেশকে আত্মনির্ভর করতে সচেষ্ট হয়েছেন মানুষজন। আত্মনির্ভরতা নিয়ে দেশজুড়ে মানুষ কথা বলছে এবং দেশীয় দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ছে ও বিদেশ থেকে রফতানির পরিমাণ কমছে।’

বিগত একমাস ধরে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে পৌঁছে দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রেল। এবার সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দিনরাত কাজ করে চলেছেন রেল কর্মচারীরা। তারাও করোনা যোদ্ধাদের সামনের সারিতে। গরিব-শ্রমিকদের উপর আঘাত সবচেয়ে বেশি। ’করোনার জেরে নিজেকে সুস্থ রাখতে আয়ুর্বেদ এবং যোগসাধনার দিকে মানুষের ঝোঁক বেড়েছে। তিনি জানান শুধু দেশ নয় বিদেশের নেতারাও আয়ুর্বেদ আর যোগ নিয়ে প্রশ্ন করছেন।’ তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে আয়ুর্বেদ আর যোগের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এমনকি তারা অনলাইনে যোগ শিখতে আগ্রহীও। তিন মিনিটের আসনে করে তার উপকারিতা জানানোর প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে আয়ুশ মন্ত্রালয়। আমি সবাইকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুরোধ করছি।’

এছাড়াও ভয়াবহ আমফানের জেরে বাংলা-উড়িষ্যার চরম ক্ষতি এবং তারপর তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি পুরো দেশ যে তাদের পাশে রয়েছে তাও জানান তিনি। দেশের বড়ো অংশ পঙ্গপালের জেরে বিপর্যস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। পরিবেশ নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘লকডাউনের চলতে দূষণ কমেছে। এবার আমাদের বৃষ্টির জলও সংরক্ষণের উপায় গ্রহণ করতে হবে। চলতি বছরে জল সংরক্ষণ সবচেয়ে জরুরি। সামনে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রকৃতির সেবা করুন, গাছ লাগান। গরম বাড়ছে, তাই পাখিদের জন্য জল ভরে রাখুন।’

করোনার লড়াই যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাও একবার তিনি মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘২ গজের সোশ্যাল ডিস্টানসিং এবং মাস্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এখনও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে হবে।’

প্ৰসঙ্গত, শনিবারই পঞ্চমদফার লকডাউনের নব নির্দেশিকা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে ১ জুন থেকে কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে তাও সেখানে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গতকালই কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার এক বছর পূর্ণ করল মোদি সরকার ২.০। এরপরেই মন কি বাত অনুষ্ঠানে আজ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের জানিয়েছিল ওই দিনে প্রায় ৮,০০০ মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। ফলে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭৬৩। যার মধ্যে চিকিৎসাধীন ৮৬ হাজার ৪২২ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮২ হাজার ৩৭০ জন। গত ২৪-ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৬৫ হওয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪,৯৭১ জন।

You might also like
Leave a Comment