দেশ

এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ২৫ টাকা বাড়ল ডিজেলের দাম, গ্রাহকদের মাথায় হাত

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যেকার যুদ্ধের প্রভাব যে পড়বে, তা জানাই ছিল। এর জেরে এবার চাপ বাড়ল ভারতের বেসরকারি তেল সংস্থাগুলির উপর। কারণ এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ২৫ টাকা দাম বেড়ে গেল ডিজেলের। তবে যদিও প্রেতল পাম্প থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। সেখানে দাম অপরিবর্তিতই থাকবে। তবে এতে চিন্তা বাড়ল পাইকারি গ্রাহকদের জন্য।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছিল যা বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে সেই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবই পড়ল ভারতের তেলের বাজারে। এর জেরে বেসরকারি তেল সংস্থাগুলি বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।  বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলিকে ট্যাঙ্কারের বরাত দেওয়ার বদলে শিল্প সংস্থাগুলি পেট্রল পাম্প থেকেই তেল কিনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় ২৫ টাকা বেড়ে যাওয়ায় জিয়ো-বিপি, শেল এবং নায়ারা এনার্জির মতো সংস্থাগুলি বেশ সমস্যায় পড়তে পারে। বলে রাখি, ২০০৮ সালে  রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ নিজেদের ১ হাজার ৪৩২টি পেট্রল পাম্প বন্ধ করে দেয়। সরকার পরিচালিত সংস্থাগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে না পেরে এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। আসলে, সরকারি ভর্তুকির ফলে সরকার পরিচালিত সংস্থাগুলির তেলের দাম স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে।

গত ১৩৬ দিনে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ে নি। গত বছর পেট্রোপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দীপাবলির সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পেট্রোলে ৫ টাকা ও ডিজেলে ১০ টাকা দাম কম করেন। এরপর নানান বিজেপি শাসিত রাজ্যের তরফে পেট্রোপণ্যের উপর শুল্ক কম করলেও পশ্চিমবঙ্গে তা করা হয়নি। মনে করা হয়েছিল, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে। তবে তেমনটা হয়নি। তবে এবার ডিজেলের দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি সংস্থাগুলি বেশ চিন্তায়।

বলে রাখি, মুম্বই পাইকারী গ্রাহকদের জন্য ডিজেলের দাম বেড়ে ১২২.০৫ টাকা লিটার হয়েছে। একই ভাবে, দিল্লিতে ডিজেলের পাইকারী দাম ৮৬.৬৭ টাকা লিটার প্রতি ছিল যার বর্তমান দাম হল ১১৫ টাকা। পেট্রোলিয়াম সংস্থার থেকে সরসারি ট্যাঙ্ক বুক কিনছেন না। এর ফলে পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী সংস্থার ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে৷

Related Articles

Back to top button