সব খবর সবার আগে।

উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে উন্নাওয়ের ধ’র্ষি’তার মাকে প্রার্থী করলেন প্রিয়াঙ্কা, প্রার্থী তালিকায় ৪০ শতাংশই মহিলা

আগামী মাসেই উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। আজ, বুধবার প্রথম দফার ভোটের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল কংগ্রেস। ১২৫ জনের এই তালিকায় প্রার্থীদের মধ্যে নাম রয়েছে উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ডের শিকার সেই নির্যাতিতার মা। এই ঘটনায় অপরাধী তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিংহ সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। সেঙ্গারের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার বাবাকে খুনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়।

এই অবস্থায় সেই নির্যাতিতার মাকে ভোটের প্রার্থী করা সে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। কংগ্রেসের প্রথম দফার প্রাথি তালিকায় ১২৫ জনের মধ্যে ৫০ জন মহিলা ও ৪০ জন যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আগেই জানিয়েছিলেন যে বিধানসভা ভোটে প্রার্থীতালিকায় ৪০ শতাংশ মহিলা থাকবেন। আজ, বুধবার প্রথম দফার প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি”। কংগ্রেস প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমন খুরশিদের স্ত্রী লুইস।

২০১৭ সালে ৪ই জিন চাকরি দেওয়ার নাম করে বাড়িতে ডেকে উন্নাওয়ের ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ। এরপর তার সাগরেদরাও তরুণীকে ফের ধর্ষণ করেন। এই নিয়ে নির্যাতিতা পুলিশে অভিযোগ জানালে পুলিশ কুলদীপের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি। এরপর নির্যাতিতা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লেখেন।

কিন্তু বছর ঘুরে গেলেও কুলদীপের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি যোগী সরকার। এদিকে, কুলদীপের লোকজন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার হেনস্থা করতে থাকে। উন্নাও আদালতে নির্যাতিতার মামলা চলাকালীন কুলদীপের ভাই লোকজন নিয়ে নির্যাতিতার বাবাকে মারধর করে। কিন্তু অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ নির্যাতিতার বাবাকেই গ্রেফতার করে।

এই পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের ৮ই এপ্রিল যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। সেখানে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন নির্যাতিতা। এর পরেই তাঁর বাবাকে গ্রেফতার করা হয়। ৯ই এপ্রিল পুলিশি হেফাজতে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাঁর রক্তে বিষক্রিয়া এবং কোলনে ফুটো হয়ে যাওয়ার উল্লেখ ছিল। তাঁর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানা যায়। পরে প্রমাণিত হয়, কুলদীপই দুই পুলিশ অফিসারের সাহায্যে নির্যাতিতার বাবার উপর অত্যাচার চালিয়েছিলেন।

এই সময় নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। জনরোষের মুখে পড়ে এই মামলা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন জেল হয় কুলদীপের।

You might also like
Comments
Loading...