দেশ

কয়লা শিল্পে বেসরকারিকরণ চলবে না, দেশ জুড়ে ধর্মঘটে নামল সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন

এবার ধর্মঘটে নামল সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। শুক্রবার কয়লা খনি বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি ধর্নায় বসে। একই সঙ্গে জেলাশাসকের মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রী কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়ে অবিলম্বে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।

শুক্রবার আসানসোলের বিএনআর মোড়ের কাছে সকাল দশটা থেকে সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ জ্যাক বা জয়েন্ট এ্যাকশান কমিটির ধর্নায় বসেন। বিকাল পর্যন্ত ধর্না চলার পরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রশান্ত মন্ডলের হাতে জ্যাকের নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে দেওয়া স্মারকলিপি তুলে দেন ।

প্রশান্ত বাবু জানিয়েছেন, তারা স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেবেন। অন্যদিকে, জয়েন্ট এ্যাকশন কমিটির আগের বৈঠকে ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস) নেতারা উপস্থিত থাকলেও, এদিন তারা ধর্নায় যোগ দেননি। জ্যাকের আহ্বায়ক তথা এআইটিইউসির খনি শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় নেতা আরসি সিং বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে বিএমএসের নেতারা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সবুজ সংকেত না থাকায় তারা ধর্নায় যোগ দিতে পারছেন না। যদিও ইতিমধ্যেই তারা একই দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন। আমাদের বিশ্বাস আগামী দিনে তারা আমাদের এই আন্দোলনে যোগ দেবেন। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র সরকার ৫০০ টি কোল ব্লক বিদেশী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া ছাড়াও কয়লা শিল্পকে বেসরকারিকরণের পথে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক লড়াইয়ের পরে কয়লা খনি জাতীয়করণ হয়েছিল ।

লকডাউনের মধ্যেও কয়লাখনিতে হাজার হাজার কর্মী একসঙ্গে কয়লা উত্তোলনের কাজ করছেন। অথচ তাদের একজনও করোনাতে আক্রান্ত হননি। শুধু কয়লাখনি বেসরকারিকরণ নয়, খনিশ্রমিকদের পিএফের টাকা ইএসআইতে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের পেনশন শেষ করার চেষ্টা চলছে। আইএনটিটিইউসি খনি শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক চন্ডী বন্দোপাধ্যায় বলেন, কয়লাখনি কোন মতেই বেসরকারিকরণ করতে দেবো না। তাতে সারা দেশজুড়ে কয়লা শিল্পে টানা ধর্মঘট করতে হলে করবো৷ ঐক্যবদ্ধভাবে সেই লড়াইয়ে যাব। কেন্দ্রীয় সরকারকে বুঝিয়ে দেবো যে কয়লা শিল্পের সাথে যুক্ত যে সব কর্মী আছেন, তাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। চাল বা ডাল ভিক্ষা দিয়ে লাভ নেই। আমরা চাই রোজগার। তা দেওয়া হোক।

এদিনের ধর্নায় সিটু, হিন্দ মজদুর সভা ,টিইউসিসি, ইউটিইউসি সহ ছটি সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতারা ছিলেন।

এদিকে, ভারতীয় মজদুর সংঘের পশ্চিম বর্ধমান জেলার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মানা করায় আমরা যায়নি। সংগঠনের তরফে গত ১৮ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন করা হয়েছে। এই একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Back to top button