দেশ

যোগী সরকারের ‘বুলডোজার অভিযানে’ স্থগিতাদেশ নয়, ‘আইনি প্রক্রিয়া মেনেই অভিযান চালাতে হবে’, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

গত কয়েকদিন ধরেই পয়গম্বর বিতর্কের জেরে উত্তরপ্রদেশের বেশ কিছু শহরে নানান হিংসার ঘটনা ঘটে। প্রয়াগরাজ থেকে শুরু করে কানপুর, সাহারানপুরে দাঙ্গাবাজদের বাড়িতে বুলডোজার অভিযান শুরু করে যোগী সরকার। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছিল জামাত-এ উলেমা হিন্দ-এর তরফে। তবে সেই মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই বুলডোজার অভিযানের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দিল না শীর্ষ আদালত।

উত্তরপ্রদেশে নানান সময়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার পরই দেখা গিয়েছে বুলডোজার রাজনীতি দেখা গিয়েছে। দাঙ্গাবাজদের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে দেখা গিয়েছে যোগী সরকারকে। এই একই পথে হেঁটে নানান বিজেপি শাসিত রাজ্যও বিক্ষোভকারীদের জব্দ করেছে। সেই মতো কয়েকদিন আগেই ফের একবার পথে বুলডোজা অভিযান শুরু করে’ উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার।

তবে যোগী সরকারের এই অভিযানের বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় জামাত-এ উলেমা হিন্দ-এর সদস্যরা। এই অভিযান যাতে বন্ধ করা হয়, এমনই আবেদন জানানো হয়। তবে সেই আবেদনে সাড়া দিল না সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে এই অভিযান পুলিশি নিয়ম মেনে করা হয়েছে, তাও এক্ষেত্রে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া যাবে না।

তবে সুপ্রিম কোর্ট এও জানিয়েছে যে এই প্রক্রিয়া আইন মেনে করতে হবে। শুধু তাই-ই নয়, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী তিনদিনের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আজ, বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি বিক্রম নাথের সুপ্রিম বেঞ্চ বলে, “দেশে আইনের শাসন রয়েছে এবং এই বিষয়টি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে একটি ধারণা থাকতে হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারকে আইনের পথ অনুসরণ করে পদক্ষেপ করতে হবে”।

প্রসঙ্গত, পয়গম্বরকে নিয়ে নূপুর শর্মার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে হিংসা ছড়ায় উত্তরপ্রদেশের নানান জায়গায়। সেই সময়ই সরকারের তরফে বুলডোজার চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো গত ১২ই জুন উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ, সাহারানপুর ও কানপুরে হিংসা ছড়ানোয় অভিযুক্তদের সম্পত্তি ধ্বংস করার কাজ শুরু করে যোগী প্রশাসন। যদিও খাতায় কলমে সরকারের তরফে বলা হয়, যে সকল ব্যক্তির বাড়ি ভাঙা হয়েছে তা বেআইনি ভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।

Related Articles

Back to top button