সব খবর সবার আগে।

৩ স্কুল পড়ুয়া মিলে আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করল ১১ বছরের কিশোরীকে!

সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করল দশম শ্রেণীর ৩ স্কুল পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুতে। ৩ অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই যৌন নির্যাতনের মামলা রুজু করা হয়েছে। আগামী শনিবার ২ অভিযুক্তকে জুভেনাইল কোর্টে তুলবে পুলিশ।

তামিলনাড়ুর সুন্দরাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত ১১ বছরের মেয়ে গুড়িয়া (পরিবর্তিত নাম)। সম্প্রতি কয়েকমাস আগেই তাঁর মা মারা যান। এখন বাবা ও এক পিসির সাথেই থাকে গুড়িয়া। বাড়িতে সবাই কর্মরত হওয়ায় দিনের বেশ অনেকটা সময়ই একা থাকতে হয় তাকে। তবে মাঝে মধ্যেই নীচের তলায় বাড়ির মালিকের ঘরে টিভি দেখতে যেত সে।

অন্যদিকে মা-বাবার সঙ্গে একতলার ওই ঘরেই থাকত দশম শ্রেণীর এক পড়ুয়া করমন (পরিবর্তিত নাম)। তার মা-বাবা দুজনেই কর্মরত। তাই সেও বাড়িতে একাই সময় কাটাত। তবে মাঝে মধ্যে বন্ধুদের নিজের বাড়িতে ডেকে নেওয়ার অভ্যাস ছিল করমনের।

এরকমই একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সময়ই নীচে বাড়ির মালিকের ঘরে টিভি দেখতে যায় গুড়িয়া। কিন্তু ঘরে গিয়ে সে দেখে, করমন তার এক বন্ধু সুমনের (পরিবর্তিত নাম) সাথে বসে মোবাইলে আপত্তিকর ভিডিও দেখছে। এই সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় সঙ্গে সঙ্গেই চলে যেতে চায় গুড়িয়া। কিন্তু তাকে ওরা যেতে দেয় না। উপরন্তু জোর করে তাকে আপত্তিকর ভিডিও দেখতে বাধ্য করা হয়। কিছুক্ষণ পর কোনরকমে পালিয়ে ঘরে চলে যায় গুড়িয়া। কিন্তু ওদের হাত থেকে নিষ্কৃতি মেলে না।

গুড়িয়ার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দুই বন্ধু উপরে আসে। তারপর ভয় দেখিয়ে একাধিকবার তারা গুড়িয়াকে ধর্ষণ করে। তবে এখানেই ওদের অসুস্থ মানসিকতার হাত থেকে মুক্তি পাইনি ছোট্ট মেয়েটা। বরং ওদের আর এক বন্ধু সুরেশকে (পরিবর্তিত নাম) ফোন করে ডেকে পাঠায় ওই দুই পড়ুয়া। তারপর আবার আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে গুড়িয়াকে ধর্ষণ করা হয়।

তবে এটা একদিনে শেষ হয়ে যায়নি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে পরের সপ্তাহে গুড়িয়ার বাড়িতে ফের হানা দেয় ওই তিন বন্ধু। ভয় দেখিয়ে আবারও একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে ৩ জনের বিরুদ্ধে। ওরা বারবার ভয় দেখিয়ে নির্যাতিতার মুখ বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল।

ওই কিশোরীও ভয়ে পরিবারের লোককে কিছু জানায়নি। কিন্তু কিছুদিন পর তার পেটে অসহ্য যন্ত্রনা শুরু হয়। আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই জানা যায় তার ধর্ষণের কথা। এরপরেই মহিলা থানায় খবর পাঠান ওই চিকিৎসক। ঘটনার জেরে করমন ও সুমনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শনিবার ওই দুই অভিযুক্তকে জুভেনাইল কোর্টে তুলবে পুলিশ। অন্যদিকে তৃতীয় অভিযুক্ত সুরেশের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি। তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনা স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর একটা বড় প্রশ্ন চিহ্ন এনে দেয়। কোন পথে হাঁটছে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ?

You might also like
Leave a Comment