দেশ

বার্ষিক ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, তবুও জনস্বার্থে পেট্রোপণ্যে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের

পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় ছিল। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও বাড়ছিল হু হু করে। এর জেরে মধ্যবিত্তদের জীবনজাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই প্রায় প্রতিদিনই বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে মোদী সরকারকে।

তবে এবার বিরোধীদের মুখে উপযুক্ত জবাব দিয়ে পেট্রোল, ডিজেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। দীপাবলির আগে যা দেশবাসীর কাছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার মতো। গতকাল, বুধবারই পেট্রোলে ৫ টাকা ও ডিজেলে ১০ টাকা দাম কমানোর কথা ঘোষণা করে মোদী সরকার। এই দাম কমানোর ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এর জেরে সরকারকে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানা যাচ্ছে।

রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৬.০৭ টাকা কমে ১০৩.৯৭ টাকা প্রতি লিটার হয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ১১.৭৫ টাকা কমে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম হয়েছে ৮৬.৬৭ টাকা। বুধবার রাজধানীতে জ্বালানি তেলের দাম ছিল সর্বোচ্চ। পেট্রোলের দাম ছিল ১১০.০৪ টাকা প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ছিল ৯৮.৪২ টাকা প্রতি লিটার।

গতকাল, বুধবার রাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয় যে জ্বালানির ওপর আবগারি শুল্ক কমানোর ফলে দাম কমবে। জানা গিয়েছে এই আবগারি শুল্ক কমানোর ফলে বার্ষিক ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে সরকারের।

জ্বালানি তেল আমদানি করার ক্ষেত্রে, ভারত রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় স্থানে। ভারতের তেলের চাহিদার ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয় মধ্য-পূর্বের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি থেকে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে ক্রুড অয়েল অর্থাৎ অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে। এর ফলে এর প্রভাব পড়ছিল ভারতের জ্বালানি তেলের মূল্যের উপরেও।

মুম্বইতে, বর্তমানে এক লিটার পেট্রোলের দাম ১০৯.৯৪ টাকা এবং ডিজেল প্রতি লিটার ৯৪.১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চেন্নাইতে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ১০২ টাকার কম। সেখানে ১০১.৪০ টাকা প্রতি লিটারে পেট্রোল এবং ৯১.৪৩ টাকা প্রতি লিটারে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। চারটি মেট্রো শহরের মধ্যে, মুম্বইতে জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি। আলাদা আলাদা শুল্কের কারণে নানান রাজ্যগুলিতে জ্বালানির দাম আলাদা হয়।

Related Articles

Back to top button