সব খবর সবার আগে।

বিয়েবাড়িতে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন, শেষে নিজের পদ ছাড়লেন ত্রিপুরার সেই জেলাশাসক

নাইট কারফিউ ভেঙে বিয়েবাড়িতে দেদার পার্টি। এই অভিযোগে সেই বিয়েবাড়িতে অভিযান চালান ত্রিপুরার এক জেলাশাসক। সেই জেলাশাসকের অভিযানের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এই তদন্তের জন্য গঠন করা হয় দুই সদস্যের কমিটি। এবার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সেই জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদব।

কিছুদিন আগে নাইট কারফিউ অমান্য করে মধ্যরাত পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান করায় ত্রিপুরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল দু’টি বিয়েবাড়ি। এর মধ্যে ‘মাণিক্য কোর্ট’ নামে একটি বিয়ে বাড়ির মালিক হলেন রাজপরিবারের সদস্য মহারাজ প্রদ্যুত কিশোর দেববর্মন। এই অভিযান চলিয়েছিলেন জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদব।

সেখানে গিয়ে পুরোহিত-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। ছিঁড়ে ফেলেন বিয়ের অনুমোদন পত্র। বিয়ের অনুমোদনে ৫০ জনকে নিয়ে রাত ১০টার আগে বিয়ে শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই আদেশ মানা হয়নি। এতেই ক্ষুব্ধ হন জেলা শাসক শৈলেশ কুমার যাদব। অভিযোগ, কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। এই ঘটনার পর এক বছরের জন্য ওই দু’টি বিয়ে বাড়ি সিল করে দেওয়া হয়। অতিথিদের উপর বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন- দিনে ৭-৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু! মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মঘাতী ৩৬-এর চিকিৎসক

এই ঘটনা ঘিরে শহরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমালোচনার মুখে পড়ে ক্ষমাও চেয়ে নেন জেলাশাসক। বলাই বাহুল্য, ত্রিপুরায় এমনিতেই করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এড়াতে নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া রাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমন অবস্থায় নাইট কারফিউ চলাকালীন মধ্যরাত পর্যন্ত বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ শঙ্কর রায় জেলাশাসকের পাশে দাঁড়ান।

কিন্তু ওই জেলাশাসকের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করার অভিযোগ ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সমালোচনার ঝড় ওঠে। জেলাশাসকের অভিযান চালানোর আগেই বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে বিয়ের কনেকে লগ্নভ্রষ্টা হতে হয়নি। জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদব জানান যে জেলায় করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ। এই পরিস্থিতিতে বারবার আবেদন করা সত্ত্বেও নাইট কারফিউ ভেঙে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছিল পার্টি। কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হত।

You might also like
Comments
Loading...