দেশ

Video: টাকা বাকি তাই বৃদ্ধকে হাসপাতালে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হল, দাবি অস্বীকার কর্তৃপক্ষের

এক বৃদ্ধর হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালের বিছানায় ফেলে রাখল হাসপাতাল। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার ভিডিয়ো উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মধ্যপ্রদেশের শাজাপুরের একটি হাসপাতালে ৮০ বছরের এক বয়স্ককে বেড-এ বেঁধে ফেলা রাখা হয়েছে কারণ, তিনি হাসপাতালের খরচ মেটাতে পারেননি।কোনোভাবে যেন উনি বেড ছেড়ে পালিয়ে না যান তার জেরেই এই বন্দোবস্ত। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ওই বৃদ্ধের খিঁচুনির সমস্যা রয়েছে। তাই কোনও ভাবেই যাতে তিনি নিজেকে আঘাত করতে না পারেন, তাই এমন বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

ভিডিও দেখে অবাক গোটা ইন্টারনেট দুনিয়া। এ কেমন চিকিৎসা পদ্ধতি। ঘটনায় অবাক হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানও। ঘটনাটির সম্পূর্ণ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন তিনি। এমনকি ট্যুইটবার্তায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছেন। শাজাপুরের ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে জেলা হাসপাতালের তরফেও পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।তবে ওই রোগীর পরিবার জানিয়েছেন, চিকিৎসার খরচের ১১ হাজার টাকা তাঁরা মেটাতে পারেননি। আর তারপর থেকেই বৃদ্ধকে এমনভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে।

বৃদ্ধের মেয়ে বলেছেন, ‘আমরা ভর্তির সময় আগাম ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলাম। এরপর দিনে দিনে সেই বিল বাড়তে বাড়তে ১১ হাজারে পৌঁছায়। আমাদের কাছে আর কোনও টাকা নেই যা দিয়ে আমরা বিল মেটাবো।’ হাসপাতালের ডাক্তারের অবশ্য পালটা যুক্তি যদিও একেবারেই আলাদা। তাঁর বক্তব্য, ‘দীর্ঘদিন ধরেই রোগীর খিঁচুনির সমস্যা রয়েছে। কোনও ভাবে নিজেকে আঘাত করলে মুশকিল হয়ে যাবে। তাই সমস্যা এড়াতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ ডাক্তারের আরও দাবি, মানবিকতার খাতিরে ওই বৃদ্ধের সমস্ত বিল ইতিমধ্যে মুকুব করে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কাছে কোনও টাকা চাওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা কমলনাথও ট্যুইট করে ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন।এমনকি এটি আমানবিক বলেও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। শাজাপুরের জেলা প্রশাসনের তরফে ঘটনাটি সরজমিনে খুঁটিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। জেলা কালেক্টর দীনেশ জৈন বলেছেন, ‘এসডিএমের একটি দল এবং একজন ডাক্তারকে এরমধ্যেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা সমস্তটা খতিয়ে দেখেছেন। এরপর তারা যা রিপোর্ট দেবেন, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমন দুঃখজনক ঘটনার সত্যতা প্রমাণ হলে কাউকে ক্ষমা করা হবে না।’

Related Articles

Back to top button