দেশ

খুব সাবধান! ডেল্টা প্লাসের থেকেও বেশি ভয়ংকর আকার ধারণ করছে করোনার এই নতুন স্ট্রেন

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে গোটা বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। একক ভাইরাসই নয়, এই ভাইরাস নতুন নতুন রূপ বদলের ফলে তা হয়ে উঠেছে আরও বেশি জটিল ও ভয়ংকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসের নতুন রূপের নামকরণ করেছে। এবার করোনা ভাইরাসের ডেল্টা প্লাসের থেকেও বেশি শক্তিশালী স্ট্রেন লক্ষ্য করা গেল।

ডেল্টা

২০২০ সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন ধরা পড়ে। ২০২১ সালের প্রথমের দিকে তা গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই স্ট্রেনটি লাফিয়ে লাফিয়ে বিশ্বব্যাপী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ঘোষণা করা হয় যে করোনার এই ডেল্টা স্ট্রেন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই স্ট্রেন সংক্রমণ বৃদ্ধি ও গুরুতর রোগের সৃষ্টি করে। গবেষণায় এমনও জানা গিয়েছে যে ডেল্টা স্ট্রেন করোনার শিল্ডকে ভেঙে দিতে সক্ষম।

ডেল্টা প্লাস

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট প্রথম দেখা গিয়েছিল ভারতে। বর্তমানে তা মিউটেশন করে আরেকটি মারাত্মক রূপ তৈরি করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ডেল্টা প্লাস। ভারতে এখনও পর্যন্ত ৩০টি ডেল্টা প্লাসের কেস পাওয়া গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই বহুরূপী ও মারাত্মক ডেল্টা প্লাসের ঘটনা ভারতের থেকে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা রয়েছে।

C.1.2 ভ্যারিয়েন্ট

২০২১ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম কোভিড-১৯ ভাইরাসের C.1.2 ভ্যারিয়েন্ট দেখা যায়। সেই সময় সেই দেশে করোনার তৃতৃীয় ঢেউ অছডে পড়েছিল বলে খবর মেলে। বিশেষজ্ঞরা এও জানান যে সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন যে সমস্ত ব্যক্তিরা টিকা নিয়েছেন। টিকার ক্ষমতাকে ভেঙে দিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনার এই নয়া রূপ।

Mu ভেরিয়েন্ট

কোভিড-১৯ এর অন্য একটি ভয়ংকর স্ট্রেন হল এই এই Mu ভেরিয়েন্ট। এর বৈজ্ঞানিকভাবে নাম B.1.621।২০২১ সালের জানুযারি মাসে এই ভ্যারিয়েন্ট প্রথম সনাক্ত হয় কলম্বিয়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা েই সময় জানায়, এই স্ট্রেনের গ্লোবাল প্রিভালেন্স ০.১ শতাংশেরও কম। কিন্তু এই স্ট্রেন কলম্বিয়ায় প্রায় ৩৯ শতাংশ ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রাথমিক ভাবে একটি প্রতিবেদনে জানা যায় যে স্ট্রেনটি টিকার শিল্ডকে এড়ানোর ক্ষমতা রাখে। তবে গবেষণায় এর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ল্যাম্বদা কোভিড ভেরিয়েন্ট

ডেল্টার থেকেও বেশি মারাত্মক হল কোভিড-১৯ এর এই নতুন স্ট্রেন। এই স্ট্রেন অত্যন্ত সংক্রামক বলে সনাক্ত করা যায়। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০টি দেশে এই স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি সম্মেলনে সতর্ক করে জানায়, ল্যাম্বদা ভেরিয়েন্ট ডেল্টার থেকেও অনেক বেশি মারাত্মক সংক্রামক। মানুষের উপর এই স্ট্রেন গুরুতরভাবে প্রভাব ফেলে।

কোন কোন লক্ষণগুলি একেবারেই উপেক্ষা করা উচিত নয়

কোভিড-১৯ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণ করে শ্বাসযন্ত্রকে। এর প্রভাবে নানান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও উপসর্গ দেখা যায়। দ্রুত সংক্রমণের ক্ষেত্রে, ভাইরাসের আক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল- বমি বমি ভাব, ডায়েরিয়া, গন্ধ ও স্বাদ না পাওয়া, পেটে ব্যাথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ক্রমাগত কাশি, জ্বর, অসম্ভব ক্লান্তিভাব, মাথাব্যাথা, পেশীতে ব্যাথা ও ক্র্যাম্প, মস্তিষ্কের বিভ্রাট ইত্যাদি

নতুন এই স্ট্রেনগুলি থেকে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন

যে কোনও সংক্রমণ এড়ানোর জন্যই এখন টিকা নেওয়া খুব প্রয়োজন। নিরাপদে থাকতে করোনার নানান বিধিনিষেধগুলি মেনে চলতে হবে। সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত পরিস্কার রাখা এই নিয়মগুলি মেনে চলতে হবে।

Related Articles

Back to top button