দেশ

মাস্টারস্ট্রোক বিজেপির! বাংলায় চন্দনা বাউড়ি থেকে রাইসিনায় দ্রৌপদী মুর্মু, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রান্তিক রাজনীতির তাস গেরুয়া শিবিরের

একুশের নির্বাচনে চন্দনা বাউড়ি। শালতোড়ার আসন থেকে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করা এই মহিলাই বিজেপিকে জয়ের মুখ দেখায়। প্রান্তিক পরিবারের এক গৃহবধূর রাজনীতি দেখেছিল সেই সময় গোটা বাংলা। ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চন্দনাকে বাংলার আকাঙ্খার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বটে।

আর এর এক বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই প্রান্তিক রাজনীতির তাসই খেলল গেরুয়া শিবির। রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা হল ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন রাজ্যপাল দ্রৌপদী মুর্মুকে। তাঁর নাম ঘোষণা করতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছিলেন যে ২০ জনের নাম এলেও বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের তরফে একজন আদিবাসী মহিলাকেই নির্বাচন করা হয়েছে।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দ্রৌপদীর জাতিগত পরিচয় উল্লেখ না করলেও প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর টুইটে ‘প্রান্তিক’ শব্দটির উল্লেখ করেছেন। মোদী লিখেছেন, দ্রৌপদী প্রান্তিক ও গরিব মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছেন। ঠাহর করলে বোঝা যায়, বাংলার চন্দনা এবং ওড়িশার দ্রৌপদীর মধ্যে তিনটি মিল রয়েছে, তা হল মহিলা, গরিব এবং পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

দলিত রামনাথ কোবিন্দকে রাষ্ট্রপতি করার পর এবার আদিবাসী দ্রৌপদীকে নির্বাচনের প্রার্থী করল বিজেপি। আর এটাকেই বলা হচ্ছে বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক। এর মাধ্যমে বিজেপি বার্তা দিতে চাইছে যে তারা দেশের প্রান্তিক মানুষের পাশেই রয়েছে। একদিকে যেখানে বিরোধী শিবির বেছে নিয়েছে যশবন্ত সিনহাকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে, সেখানে দাঁড়িয়ে এবার বিজেপির নতুন ত্রুপের ত্রাস প্রান্তিক দ্রৌপদী মুর্মু।

বিরোধী শিবিরে যেখানে প্রতিষ্ঠিত, পরিচিত এবং উচ্চবর্গীয় রাজনীতিকদের রাষ্ট্রপতি করার দিকে ঝুঁকেছে, সেখানে বিজেপি দেখাতে চেয়েছে, তারা প্রান্তিক মানুষের পাশে রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আদিবাসীরাই ভারতের মূল বাসিন্দা। সেই অর্থে এই প্রথম কোনও মূলবাসীকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বেছে নিয়েছে বিজেপি

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, পিছিয়ে থাকা শ্রেণির মানুষের কথা বললে আখেরে লাভ। ভোটারদের শতাংশের হিসেবেও তাঁরা হেলাফেলার নয়। ২০১৯ সালের ‘লোকনীতি-সিএসডিএস’-এর সমীক্ষা বলছে, ভারতে গড়ে ভোট পড়ে ৬২ শতাংশ। সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ৭২ শতাংশ মানুষ ভোট দেন।

নরেন্দ্র মোদী নিজেও নিম্নবর্গীয় অংশের মানুষ। গুজরাতের ঘাঞ্চি সম্প্রদায়ের অন্তর্গত তাঁর পরিবার। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে মোদী বলেছিলেন, “আমাকে যত খুশি গালি দাও। দরকারে ফাঁসিকাঠে ঝোলাও। কিন্তু আমার মতো নীচু জাতের কাউকে অপমান কোরো না। আমার স্বপ্ন একটাই। এক ভারত, সেরা ভারত”।

সেই সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা নীচ রাজনীতি চলছে বলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন। এর জবাবে মোদী টুইট করে লেখেন, “সমাজের নীচু তলা থেকে এসেছি বলেই আমার রাজনীতি ওঁদের চোখে নীচ রাজনীতি বলে মনে হবে। নীচু জাতির মানুষের কতটা ত্যাগ, বলিদান ও চেষ্টায় দেশ আজ এই উচ্চতায় পৌঁছেছে, সেটা বোধহয় কিছু মানুষের নজরেই আসে না”।

বস্তুত, লোকসভার ৫৪৩ সদস্যের মধ্যে ৮০, রাজ্যসভার ২৪৫ সদস্যের মধ্যে ৩১ জন সদস্য যে রাজ্য থেকে আসেন, সেখানকার জাতপাতের অঙ্ক মিলিয়েই মোদী পাশ করেছেন ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে। যোগী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এবং ক্ষমতায় ফিরেছেন সেই অঙ্কের হিসাবেই। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি জোটে উচ্চবর্ণের বিধায়ক ১১৭ জন। আর পিছড়েবর্গ ও তফশিলি জাতি, উপজাতি মিলিয়ে বিধায়ক ১৫৫ জন। এমন অঙ্ক গোটা দেশেই রয়েছে।

Related Articles

Back to top button