সব খবর সবার আগে।

কোভিশিল্ড ও স্পুটনিকের তুলনায় কোভ্যাক্সিনের দাম অত্যধিক বেশি, কিন্তু কেন?

ভারতে আপাতত মিলছে করোনার তিনটি টিকা। কোভিশিল্ড, কোভ্যাক্সিন ও রাশিয়ার স্পুটনিক। এই তিন টিকার দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। বেসরকারি হাসপাতালে কোভিশিল্ডের একটি ডোজের দাম ৭৮০ টাকা, স্পুটনিকের সর্বোচ্চ ডোজের দাম ১১৪৫ টাকা ও কোভ্যাক্সিনের প্রতি ডোজের দাম ১৪১০ টাকা। তিনটি টিকার দামের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে জিএসটি ও সার্ভিস চার্জ।

কিন্তু এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কোভিশিল্ড ও স্পুটনিকের তুলনায় কোভ্যাক্সিনের দাম এতটা বেশি কেন? জানা গিয়েছে, এই তিন টিকার উৎপাদন প্রযুক্তি ভিন্ন ভিন্ন। ভারত বায়োটেক তৈরি করছে কোভ্যাক্সিন টিকা।

এই টিকা তৈরি করা হচ্ছে নিস্ক্রিয় অর্থাৎ মৃত করোনা ভাইরাস দিয়ে। এর কারণে এই টিকা তৈরিতে প্রয়োজন অত্যন্ত দামী সেরাম। এই সেরামেই জন্ম দেওয়া হচ্ছে ভাইরাস। এই কারণেই বেশি খরচা পড়ছে এই টিকা উৎপাদনে।

ল্যানসেটের মতে, এই টিকায় দুই ধরণের বুস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কারণে বাকী দুই টিকার থেকে কোভ্যাক্সিন বেশি কার্যকরী। চীনের দুটি কোম্পানি এই পদ্ধতিতে টিকা বানালেও তার মধ্যে একটি বুস্টার রয়েছে।

এই একই পদ্ধতিতে তৈরি হয় র‍্যাবিস টিকা। এর দাম মাত্র ২০০ টাকা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার উৎপাদন বাড়লে টিকার দামও কমবে। আসলে টিকা উৎপাদনের খরচের থেকে এর দাম অনেকটাই বেশি হয় প্রথমের দিকে। কারণ সেই সময় গবেষণায় অনেক টাকা খরচ হয়।

আবার অন্যদিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা গবেষণা করে তৈরি করেছে কোভিশিল্ড। ভারতে এর উৎপাদক সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। এর মধ্যে রয়েছে শিম্পাঞ্জিকে সংক্রমিত করতে পারা এডিনো ভাইরাস। স্পাইক প্রোটিনের জিন ডোপিংয়ে বানানো এটি ভ্যাকসিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে চিহ্নিত করবে। প্রায় একই প্রযু্ক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে স্পুটনিক ভি।

তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে কোভিশিল্ড ও স্পুটনিকের দামের মধ্যে এতটা তারতম্য কেন? আসলে স্পুটনিক টিকা ভারতকে আমদানি করতে হচ্ছে রাশিয়া থেকে। এই কারণে দাম বেশি। পরবর্তীকালে ভারতে এই টিকার উৎপাদন শুরু হলে, দাম অনেকটাই পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

You might also like
Comments
Loading...