দেশ

ক্রমেই বাড়ছে ওমিক্রনের ত্রাস, সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের দিকেই কী এগোচ্ছে ভারত?

দেশে ক্রমেই বাড়ছে ওমিক্রনের আতঙ্ক। এখনও পর্যন্ত করোনার এই নতুন স্ট্রেনে ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ জন। এর জেরে ফিরছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের স্মৃতি। এই পরিস্থিতিতে দেশে ফের কী লকডাউনের প্রয়োজন? এমনই প্রশ্ন উঠছে।

ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রে ওমিক্রনে আক্রান্তের সংখ্যা সাত জন। এছাড়াও, রাজস্থানেও নয়জনের শরীরে এই নতুন স্ট্রেন থাবা বসিয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট কী দ্রুতই দেশে ছড়িয়ে পড়বে? ফের কী করোনার অন্য ঢেউ ছড়িয়ে পড়বে?

এই নিয়ে নানান মত রয়েছে। কিছুদিন আগেই নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পাল বলেছিলেন যে এই মুহূর্তে লকডাউনের প্রয়োজন নেই। তবে তিনি এও জানান যে ওমিক্রন নিয়ে পরীক্ষা চলছে। বুস্টার ডোজ আদৌ দেওয়া যাবে কী না, সে নিয়েও আলোচনা চলছে।

তবে সম্প্রতি কানপুর আইআইটির গবেষক মনীন্দ্র আগরওয়াল দাবী করেন, জানুয়ারি মাসেই দেশে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন আরও সংক্রামিত হবে। সেই সময় উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুর এবং পঞ্জাবে নির্বাচন রয়েছে সেই সময় এই ভ্যারিয়্যান্ট ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষক মনীন্দ্র আগরওয়ালের পরামর্শ দেন যে তৃতীয় ঢেউ রুখতে দেশে লকডাউউনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে তিনি এওন বলেন যে কঠোর লকডাউন নয়, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি এমন জায়গায় অল্পদিনের জন্য লকডাউন করা যেতে পারে। এ বিষয়টি প্রশাসনের দক্ষ হাতে নজর দেওয়া উচিত। তবে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে যখন ফের কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা শিখর ছোঁবে, সেই সময় ফের নৈশ কার্ফু, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ছোট ছোট এলাকায় লকডাউন জারি করা উচিত।

প্রশ্ন উঠছে ওমিক্রনের জন্যই কি দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়বে? এই উত্তরে প্রকাশিত FAQ-তে উল্লেখ করা হয়েছে, “দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরেও বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন ছড়াচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ভ্যারিয়্যান্টের যে ছবি সামনে এসেছে তাতে মনে করা হচ্ছে এই ভ্যারিয়্যান্ট আরও দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে,তার মধ্যে রয়েছে ভারতও। যদিও এখনও কতদ্রুত এই ভ্যারিয়্যান্ট ছড়াবে এবং তার প্রভাব কতটা গুরুতর হতে পারে তা এখনও স্পষ্ট নয়।কিন্তু, যেহেতু ভারতে দ্রুত গতিতে টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভারতে ডেল্টা ভ্যারিয়্যান্ট বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল তাই এই ভ্যারিয়্যান্টের প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে”।

Related Articles

Back to top button