রাজ্য

বয়স কেবল একটা সংখ্যা মাত্র! ২১শে জুলাইয়ের দেওয়াল লিখনে ব্যস্ত তৃণমূল কর্মীদের রোলমডেল বছর ৯০-এর গীতা মজুমদার

বয়স পৌঁছেছে ৯০-এর ঘরে। কিন্তু তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে বয়স কোনওভাবেই দমিয়ে রাখতে পারেনি। দলের জন্য তাঁর আনুগত্য একইরকম রয়ে গিয়েছে। তাই তো ৯০ বছর বয়সে দাঁড়িয়েও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ২১শে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশের প্রচারের জন্য দেওয়াল লিখছেন গীতা মজুমদার। বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে প্রত্যেক বছরের মত এই বছরও ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে যোগ দেবেন উত্তর হাওড়ার সালকিয়া বি রোডের এই বর্ষীয়ান নেত্রী। এর জন্য প্রস্তুতিও এখন তুঙ্গে।

একেবারে প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন গীতা মজুমদার। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই সক্রিয়ভাবে দলের হয়ে কাজ করছেন গীতাদেবী। বয়স ৯০ হলেও এখনও দলের হাত ছাড়েন নি তিনি। নিয়ম করে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেওয়াল লিখছেন। প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত একদিন করে তৃণমূল হাওড়া সদরের কার্যালয়ে গিয়ে মহিলা নেতৃত্বে সঙ্গে কথা বলেন গীতাদেবী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন গীতা মজুমদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাতৃ বিয়োগের খবর পেয়েই তাঁর পাশে দাঁড়াতে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। দলকে নিয়ে সবসময় চিন্তাভাবনা চলে তাঁর মধ্যে। এই বয়সে দাঁড়িয়েও সবসময় দলের কাজে নিজেকে নিয়োগ করেছেন গীতা মজুমদার। একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন তিনি।

উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী তাঁকে মায়ের মতো শ্রদ্ধা করেন। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, “এখনও তৃণমূলের যেকোনও কর্মসূচিতে গীতা মজুমদারকে প্রথম সারিতে দেখতে পাওয়া যায়। দলের সব মিটিং মিছিলে তাঁর উপস্থিতি থাকবেই। এর কখনও অন্যথা হয় না”।

তৃণমূল কর্মীদের কাছে গীতা মজুমদার উত্তর হাওড়ার মাতঙ্গিনী নামেই পরিচিত। ২১শে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশের জন্য দেওয়াল লিখছেন তিনি। গীতা মজুমদার বলেন, “তৃণমূলের জন্ম লগ্ন থেকে দলের সঙ্গে আছি। দলের একজন কর্মী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকেছি। যতদিন থাকব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব। এই কাজে বয়স কোনওদিন বাধা হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে এইভাবেই কাজ করে যাব “।

৯০ বছর বয়সে এসেও দলের প্রতি গীতা মজুমদারের এই আনুগত্য দেখে সত্যিই অবাক হতে হয় বই কি! এই প্রসঙ্গে দলীয় কর্মীরা জানিয়েছেন, “৯০ বছরেও দলের প্রতি অবদান সত্যিই অনস্বীকার্য। দলের কর্মীদের কাছে এককথায় তিনি রোলমডেল”।

Related Articles

Back to top button