সব খবর সবার আগে।

‘২রা মে-র পর থেকে পুলিশ নিজের কাজে গাফিলতি করছে’, রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় তীব্র তোপ বিজেপির

২রা মে, রবিবার ভোটের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ফের একবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিত হাসিল করেছে। কিন্তু এদিন থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে চরম অরাজকতা। এদিন ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের উদ্দেশ্যে শান্তির বার্তা দেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। রাজ্যে একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, তাদের মৃত্যুর খবর এসেছে। এবার এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের পুলিশ ও মুখ্যসচিবকে তপ দাগলেন বিজেপি নেতা অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় ও সম্বিত পাত্র।

আজ, মঙ্গলবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তারা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে সম্বিত পাত্র বলেন, “মমতা জি, আপনারা জয়ের মর্যাদা পেয়েছেন। আপনি নিজে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। যে মায়েদের আজ ধর্ষণ করা হচ্ছে, যে মেয়েদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে, তারা কি বাংলার মেয়ে নয়? তাদের প্রতি কি এই জাতীয় আচরণ করা উচিত?”

আরও পড়ুন- শপথ গ্রহণের আগে আজ কালীঘাটের বাড়িতে বিকেল ৫টায় বৈঠক মমতার, কী আলোচনা হবে এই বৈঠকে?

জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকেও পাথর ছোঁড়া হয়েছিল। রাজ্যে বিজেপির কর্মীরা বছরের পর বছর এ ভাবে আক্রমণের শিকার হয়েও ধৈর্য্য ধরে কাজ করছেন, হাতে অস্ত্র তুলে নেননি বলে উল্লেখ করেন সম্বিত পাত্র। সম্বিত পাত্রের দাবী, “বিজেপি আর তৃণমূলের একটাই তফাৎ। তৃণমূলে পিসি-ভাইপোর পরিবারই একটা দল। আর বিজেপিতে গোটা দলটাই একটা পরিবার”।

ভোট পরবর্তী এই হিংসার ঘটনায় রাজ্যের প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে মুখ খোলেন বিজেপি নেতা তথা বোলপুরের প্রার্থী অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবী, রাজ্যে পুলিশ তৃণমূলে চাপে কোনও দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।তিনি আরও বলেন, “পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ২রা মে বিকেল থেকে পুলিশের গাফিলতি চোখে পড়ছে। পুলিশের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও এটা করেছে, এখনও সেটাই করছে”। মুখ্যসচিবের কাছে আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বদল হতেই পারে। তাই বলে এ ভাবে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকবেন না”।

আরও পড়ুন- রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা, উদ্বেগ প্রকাশ করে জগদীপ ধনখড়কে ফোন প্রধানমন্ত্রীর, টুইটারে ঝড় রাজ্যপালের

এই ঘটনার তদারকিতে আজ বাংলায় আসছেন জেপি নাড্ডা। কলকাতায় এসে প্রথমে তিনি হেস্টিংসে সদর দফতরে যাবেন। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের একাধিক বিজেপি দফতর ভাঙচুর করা হয়েছে। সেগুলি পর্যবেক্ষণ করতে যেতে পারেন তিনি। বিজেপির দাবী, রাজ্যে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই খুন হয়েছেন তাঁদের ৬ কর্মী। তাঁদের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন নাড্ডা। আগামীকাল, ৫ই মে এই ভোট পরবর্তী ঘটনার প্রতিবাদে ধর্নায় বসবে গেরুয়া শিবির।

You might also like
Comments
Loading...