রাজ্য

ঢুকেছিলেন বুকের বাঁপাশে হাত দিয়ে, জেরা শেষের আগেই সিবিআই দফতর থেকে বেরিয়ে সটান এসএসকেএমে ছুটলেন অনুব্রত মণ্ডল

ছ’বার তলবের পর অবশেষে তিনি আজ, বৃহস্পতিবার পৌঁছেছিলেন নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে। এর আগে তাঁকে একাধিকবার গরু পাচারকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠিয়েছে সিবিআই। কিন্তু প্রত্যেকবারই কোনও না কোনও বাহানায় তা এড়িয়ে যান তৃণমূল নেতা।

আজ, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট নাগাদই সিবিআই দফতরে পৌঁছে যান অনুব্রত। বুকের বাঁপাশে হাত দিয়েই ঢোকেন নিজাম প্যালেসে। ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ তাঁকে জেরা শুরু করেন সিবিআই আধিকারিকরা। এদিন সাত পাতার প্রশ্নপত্র ধরে ধরে তাঁকে জেরা করা হয় তাঁকে।

তিনদফায় জেরা করার পর নিজাম প্যালেস থেকে বের হন অনুব্রত। প্রায় চার ঘণ্টা জেরা চলে তাঁর। এরপর নিরাপত্তারক্ষীদের কাঁধে ভর দিয়ে দিয়ে নিজাম প্যালেস থেকে বের হন তিনি। এদিন তিনি নিজের আইনজীবী মারফত সিবিআইকে প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে আজ দুপুর ২টোর পর চিকিৎসকদের কাছে অ্যাপয়ন্টমেন্ট রয়েছে তাঁর।  

এই কারণে ২টোর আগেই তাঁকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় সিবিআইয়ের তরফে। এই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তদের বয়ান মিলিয়ে দেখছে সিবিআই। তবে সিবিআই জানিয়েছে যে অনুব্রতর জেরা এদিন সম্পূর্ণ হয়নি। তবে কবে ফের তাঁকে জেরা করা হবে তা এখনও জানা যায়নি।

এদিন নিজাম প্যালেস থেকে ১০ মিনিটের রাস্তা পেরিয়ে দুপুর ২টো ১০ মিনিট নাগাদ অনুব্রতর গাড়ি পৌঁছয় এসএসকেএমে। হুইল চেয়ারে করেই হাসপাতালে আসেন তিনি। জানা গিয়েছে, রুটিন চেকআপের জন্যই এদিন হাসপাতালে পৌঁছন কেষ্ট।

বলে রাখি, গত ৬ই এপ্রিল গরু পাচারকাণ্ডে তৃণমূল নেতাকে তলব করে সিবিআই। সেই সময় ৬ই এপ্রিলের আগের দিন তিনি বীরভূম থেকে কলকাতা আসেন। ৬ই এপ্রিল তাঁর গাড়িও বেরোয় চিনার পার্কের ফ্ল্যাট থেকে। কিন্তু নিজাম প্যালেসে না গিয়ে সেই গাড়ি যায় সোজা এসএসকেএম-এ। নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হন ‘কেষ্ট’।হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরদিনই ফের সিবিআই তলব করে অনুব্রতকে। কিন্তু সেই সময় তিনি চিঠি দিয়ে জানান যে ২১ মে-র পর যাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো তিনি সেই সময় বিছানা ছেড়ে উঠছিলেন না। তবে ২১ মে-র আগেই আজ, বৃহস্পতিবার নিজেই সিবিআই দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন অনুব্রত।

Related Articles

Back to top button