রাজ্য

‘ঘরের ছেলে ঘরে ফিরেছি, ভুল বুঝে দল ছেড়েছিলাম, এসি ঘরে বসে রাজনীতি হয় না’, বিজেপি ছাড়ার পর প্রাক্তন দলকে কটাক্ষ অর্জুনের

জল্পনা সত্যি করেই অবশেষে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং (Arjun Singh)। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উপস্থিতিতেই নিজের তৃণমূলে (TMC) ঘর ওয়াপসি করেছেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দিয়েই বিজেপিকে (BJP) কড়া সুরে আক্রমণ শানালেন তিনি। বলেই দিলেন যে এসি ঘরে নাকি রাজনীতি করা যায় না।

এদিন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক-সহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করেন অর্জুন সিং। সেই বৈঠকে বিজেপিকে একের পর এক কটাক্ষ বাণে বিদ্ধ করেন তিনি। বলেন,  “ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এসেছি। ভুল বোঝাবুঝিতে দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলাম। ব্যারাকপুরের সাংসদও হয়েছিলাম। কিন্তু রাজ্যে দীর্ঘ দিন ধরেই পাটশিল্পের সমস্যা রয়েছে। এই শিল্প অবহেলার শিকার হয়েছে। রাজ্যের ৬২টি জুট মিলের মধ্যে বেশ কয়েকটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি অনেক। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত নভেম্বর মাসে পাটকল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি এই শিল্পে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এই খবরটা পাওয়ার পর থেকে আমি লড়াই শুরু করে দিই দিল্লি সরকারের বস্ত্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে। সামান্য, ২৫ শতাংশ আদায় করতে পেরেছি। কিন্তু ৭৫ শতাংশ বাকি রয়েছে। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যদি লড়াই না লড়তে পারি তা হলে আমাদের আরও ক্ষতি হবে”

এদিন বিজেপির রাজ্য সংগঠন নিয়ে ক্ষোভ জারি করে অর্জুন বলেন, “শুধু ফেসবুকে সংগঠন করা যায় না। স্রেফ এসি ঘরে বসে রাজনীতি করা যায় না। মাঠে ময়দানে নেমে রাজনীতি করতে হবে। আমরা এক সময় তৃণমূলস্তরে নেমে লড়াই করে সিপিএমকে হারিয়েছি। এই জন্যই রাজ্য বিজেপির গ্রাফ নামছে। বাংলার উন্নয়নকে কিছু মানুষ রাজনীতি করে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তখন আমার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এর পর তাঁদের সঙ্কেত পেয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসি”।

এসবের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, অর্জুন কী তাহলে নিজের সাংসদ পদ ত্যাগ করবেন? এই বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট জবাব, “সাংসদ হিসাবে অবশ্যই আমার পদত্যাগপত্র দেওয়া উচিত। কিন্তু বিজেপিতে আজও দু’জন সাংসদ আছেন যাঁরা তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছিলেন। কিন্তু এখনও তাঁরা পদত্যাগপত্র দেননি। তাঁরা পদত্যাগ করলে আমি তখনই দিল্লি গিয়ে পদত্যাগ করব। আমার এক ঘণ্টা সময় লাগবে না”। সূত্রের খবর, আগামী ৩০শে মে বিকেল ৪ টের সময় অর্জুনের তৃণমূলে ফেরার জন্য জগদ্দলে একটি জনসভা করবেন অভিষেক।

Related Articles

Back to top button