রাজ্য

হঠাৎই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা তৃণমূল নেত্রী অর্পিতা ঘোষের, কেন এমন সিদ্ধান্ত? কারণ জানিয়ে চিঠি অভিষেককে

আচমকাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল নেত্রী অর্পিতা ঘোষ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলের নির্দেশেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। গতকাল, বুধবার দিল্লি যান তৃণমূল নেত্রী। সেখানে সংসদে গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। এরপর এদিনের রাতের বিমানেই ফিরে আসেন কলকাতা।

হঠাৎ তাঁর এই পদত্যাগের কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় নানান জল্পনা। তবে শোনা যাচ্ছে, বিধানসভায় জয়ের পর দল এবার চাইছে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে। এই কারণে অর্পিতাকে সাংগঠনিক কাজে লাগিয়ে রাজ্যসভায় তাঁর জায়গায় সর্বভারতীয় কোনও নেতাকে সাংসদ হিসেবে বসাতে চাইছে দল।

সাংসদ হিসেবে তাঁর মেয়াদ ছিল ২০২৬ পর্যন্ত। কিন্তু পাঁচ বছর আগেই ইস্তফা দিলেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসন থেকে লড়েছিলেন অর্পিতা। কিন্তু সেখানে জিততে পারেন নি তিনি। এরপর তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংসদে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বারবার আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বাদল অধিবেশনে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ করায় সাসপেন্ডও হন তিনি।

তবে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তে যখন নানান জল্পনা চলছে, সেই সময় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে নিজের ইস্তফা দেওয়ার কারণ জানান অর্পিতা। এই চিঠিতে অর্পিতা লিখেছেন যে তিনি বাংলার হয়ে কাজ করতে বিশেষ আগ্রহী। তাঁকে যাতে সেই সুযোগ দেওয়া হয়।

অর্পিতা লেখেন, “বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর থেকেই ভাবছিলাম, দলের কাজ কীভাবে করব। আমায় যদি বাংলায় দলের কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়, সাংসদ পদে না থেকে সেই কাজ করতে আমি বেশি আগ্রহী। আমার লক্ষ্য স্পষ্ট। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমি বাংলার কাজ করতে চাই”।

এই চিঠিতে অর্পিতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বাংলায় এসে কাজ করতে পারলেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব”।

আরও পড়ুন- ভাটপাড়ায় লাগাতার বোমাবাজি, গুলিগোলা, এবার থেকে জেড ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পাবেন অর্জুন সিং

প্রাক্তন সাংসদ জানান যে রাজনৈতিক জীবনে দল তাঁকে অনেক কিছু দিয়েছে। তিনি এর জন্য কৃতজ্ঞ। তাঁর কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে অনেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। উপভোগও করেছি। লোকসভার সাংসদ থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি, রাজ্যসভার সাংসদ পদ, দল আমাকে অনেক দায়িত্ব দিয়েছে। সেজন্য দলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ”। তবে অর্পিতা যতই বলুন এ তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তৃণমূল সূত্রে কিন্তু খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button