রাজ্য

‘এবার বদলা চাই’, বিরোধীদের শানিয়ে হুঁশিয়ারি কল্যাণের, ‘গলায় বকলস পরিয়ে ঘোরাব’, হুঙ্কার মদনের, অনুব্রতর গ্রেফতারিতে বিস্ফোরক তৃণমূল নেতারা

গরু পাচার কাণ্ডে (cattle smuggling case) গত বৃহস্পতিবার সিবিআই (CBI) গ্রেফতার করেছে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mandal)। আপাতত ১০ দিনের জন্য সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন তিনি। অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই উল্লাসে মেতেছে বিরোধী শিবিরগুলি। বাম-বিজেপি (CPM-BJP) নেতাকর্মীরা ‘চড়াম চড়াম’ ঢাক বাজিয়ে গুড়-বাতাসা, নকুলদানা বিলিয়ে উদযাপন করেছেন।

অনুব্রতর গ্রেফতারির পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পথে নেমে আন্দোলন করতে দেখা যায় তৃণমূলকে। এমনকি, তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাও এই নিয়ে নানান মন্তব্য করেছেন। এবার অনুব্রতর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বিরোধিতা করে মুখ খুললেন তিন তৃনমুল বিধায়ক অসিত মজুমদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্র।

গতকাল, শনিবার চুঁচুড়ার প্রতিবাদ মিছিল থেকে অসিত মজুমদার বলেন, “যদি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কোনও কুৎসা করা হয়, তাহলে ধোলাই হবে”। এই একই মঞ্চ থেকে বক্তৃতার সময় সিপিএম, বিজেপি এবং কংগ্রেসকে শানিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, “মমতাদি একটা ভুল করেছেন। আমি এখন মনে করছি তাই। দিদির সমালোচনা করা আমার উচিত নয়। কিন্তু আমার এখন যেন মনে হচ্ছে। আগে মনে হয়নি কখনও। বদলা নয়, বদল চাই। এর বদলে বদলা চাই, এটাই হওয়া উচিত ছিল। আমাকে ক্ষমা করবেন মমতা’দি। আমি বলে ফেললাম। আপনার অনেক বড় মানসিকতা। আপনার হৃদয় অনেক বড়। তাই আপনি বলেছিলেন। কিন্তু আপনার মানসিকতা বোঝার মতো ক্ষমতা বিরোধীদের নেই। যে ভাবে সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি নোংরামি করছে, তাতে আমাদের সেই দিনই বলা উচিত ছিল বদলার বদলে বদলা নিতে হবে”

এরপর বিরোধীদের শানাতে বাদ যান নি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রও। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষকে বলি, বেশি ইট-পাটকেল করবেন না। এর পর পরিস্থিতি এমন আসবে, আপনাকে কিন্তু কোমরে বেল্ট পরিয়ে ঘোরাতে হবে। কলকাতা-সহ বাংলায় যদি তৃণমূল কর্মীদের গায়ে হাত পড়ে তা হলে ইট-পাথর তো দূরের কথা, কার কোমরে-গলায় বকলস পরায় জানেন তো? আপনাদের গলায় এ বার বকলস পরিয়ে ঘোরাতে হবে। তার জন্য তৈরি থাকুন”।

তৃণমূলের এই নেতাদের এহেন আক্রমণ নিয়ে পাল্টা তোপ দাগেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “ধ্বংস অনিবার্য বুঝে ওঁরা মস্তিস্কের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। সবটাই মানুষ দেখছেন। যা কিছু জবাব মানুষ জবাব দেবেন”।

অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে বামনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূল নেতারা কেন্দ্র থেকে যে ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে ওঁরা বুঝেছেন, যত দাপট দেখাবেন তত বড় নেতা হবেন। তত বেশি পোস্ট হবে। তত বেশি দিনের জন্য কোটি কোটি টাকা। সাম্রাজ্যের ভাগীদার হওয়ার জন্য লাফালাফি চলছে। ওঁরা টের পাচ্ছেন না। খুঁটিটা আলগা হয়ে গিয়েছে”।

Related Articles

Back to top button