রাজ্য

‘চললাম, আলবিদা’, ফেসবুকে অভিমান জাহির করে রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন বাবুল সুপ্রিয়

‘চললাম, আলবিদা’, হ্যাঁ এই কথা দিয়েই নিজের শুরু করেন তিনি। এরপরই পরিস্কার জানিয়ে দেন যে তিনি রাজনীতি ছাড়ছেন। দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট জুড়ে বেশ খানিকটা অভিমানের ছোঁয়াও রয়েছে। সাংসদ পর থেকেও ইস্তফা দেবেন তিনি, এও স্পষ্ট করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

তবে না, অন্য কোনও দলে যাচ্ছেন না তিনি, কেউ ডাকেও নি। এটা সম্পূর্ণই নিজের সিদ্ধান্ত তাঁর। বাবুল বলেন রাজনীতিতে না থেকেও সমাজসেবা করা সম্ভব। তিনিও তাই-ই করবেন। তবে এর আগে নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নিতে চান তিনি।

মন্ত্রিত্ব হারানো তাঁর দল ছাড়ার একটা কারণ তো বটেই, এরই সঙ্গে আরও আনুষঙ্গিক নানান কারণে দলের সঙ্গে দুরত্ব বেড়েছে তাঁর। এর আগেও তিনি অনেকবার দল ছাড়তে চেয়েছেন। কিন্তু অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার কথায় তিনি থেকে যান। কিন্তু এবার আর না।

বাবুল লেখেন, “বিগত কয়েকদিনে বার বার মাননীয় অমিত শাহ ও মাননীয় নাড্ডাজির কাছে রাজনীতি ছাড়ার সঙ্কল্প নিয়ে গেছি এবং আমি ওঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ যে প্রতিবারই ওঁরা আমাকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি তাঁদের এই ভালোবাসা কোনো দিন ভুলবো না আর তাই আবার তাঁদের কাছে গিয়ে সেই একই কথা বলার ধৃষ্টতা আর আমি দেখাতে পারবো না। বিশেষ করে ‘আমার আমি’ কি করতে চায় তা যখন আমি অনেকদিন আগেই ঠিক করে ফেলেছি। কাজেই আবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে গেলে কোথাও না কোথাও তাঁরা ভাবতেই পারেন যে আমি কোনো ‘পদের’ জন্য দর করছি। আর তা যখন একেবারেই সত্য নয় তখন একেবারেই চাইনা যে তাঁদের  মনের ঈশান কোণেও সেই ‘সন্দেহের’ উদ্রেক হোক – এক মুহূর্তের জন্য হলেও”।

রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে যে তাঁর সম্পর্ক ভালো নয়, এও তিনি জানান নিজের পোস্টে। বাবুলের কথায়, “২০১৪ আর ২০১৯ -এর মধ্যে অনেক ফারাক। তখন শুধু বিজেপির টিকিটে আমি একাই ছিলাম। আলুওয়ালিয়াজির সম্মান রেখেই বলছি তিনি জিজেএম ও বিজেপির সমর্থনে দার্জিলিঙে জিতেছিলেন। কিন্তু আজ বাংলায় বিজেপিই প্রধান বিরোধী দল। আজ পার্টিতে অনেক নতুন উজ্জ্বল তরুণ তুর্কি নেতা যেমন আছেন তেমনই অনেক প্রবীণ বিদগ্ধ নেতাও আছেন। আরেকটা কথা, ভোটের আগে থেকেই কিছু কিছু ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বের সাথে মতান্তর হচ্ছিল। তা হতেই পারে কিন্তু তার মধ্যে কিছু বিষয় জনসমক্ষে চলে আসছিলো | তার জন্য কোথাও আমি দায়ী (একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম যা পার্টির শৃঙ্খলালাভঙ্গের পর্যায়েই পড়ে) আবার কোথাও অন্য নেতারাও ভীষণভাবে দায়ী, যদিও কে কতটা দায়ী সে প্রসঙ্গে আমি আজ আর যেতে চাইনা – কিন্তু  প্রবীণ নেতাদের মতানৈক্য ও কলহে পার্টির ক্ষতি তো হচ্ছিলই, ‘গ্রাউন্ড জিরো’-তেও পার্টির কর্মীদের মনোবলকে যে তা কোনোভাবেই সাহায্য করছিলো না তা বুঝতে ‘রকেট বিজ্ঞান’-এর জ্ঞানের দরকার হয় না। এই মুহূর্তে তো তা একেবারেই অনভিপ্রেত তাই আসানসোলের মানুষকে অসীম কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমিই সরে যাচ্ছি”।

তিনি এও জানান যে দিল্লিতে নিজের বাসভবন যতটা শীঘ্র সম্ভব তিনি ছেড়ে দেবেন। নেবেন না সাংসদের বেতনও। বাবুলের রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার খবরে জোর শোরগোল পড়েছে।

শেষে বাবুল এও বলেন যে “১৯৯২-তে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাঙ্কের এর চাকরী ছেড়ে মুম্বাইতে পালানোর সময়েও তাই করেছিলাম, আজ তাই করলাম!!! চললাম.. হ্যাঁ, কিছু কথা বাকি রয়ে গেলো.. হয়তো কখনো বলবো.. আজ নাই বা বললাম.. চললাম..”

Related Articles

Back to top button