রাজ্য

‘বোন’ প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে মমতার হয়ে কী প্রচারে নামবেন বাবুল? তৃণমূল নেতার আর্জি ‘আমাকে বিড়ম্বনায় ফেলবেন না’,

একদিকে ‘বোন’ আর অন্যদিকে ‘দিদি’, মাঝে বেশ বিড়ম্বনার মধ্যেই পড়েছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতি যে বড় জ্বালা, একদিক তো বাছতেই হবে। নিজের দলকে তাই আর্জি জানালেন যে “আমাকে বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলবেন না”।

একুশের নির্বাচনে বাবুল সুপ্রিয় ছিলেন বিজেপির তারকা প্রচারক। কিন্তু ভবানীপুর উপনির্বাচনের আগেই দল বদলে তৃণমূলে ভেড়েন। এরপরই একটা প্রশ্ন বারবার উঠতে থাকে যে এবার কী বাবুল তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর হয়ে ভোটের প্রচার করবেন?

আরও পড়ুন- পার্থর পর এবার মানস ভুঁইয়া, আইকোর মামলায় তৃণমূল বিধায়ককে তলব সিবিআইয়ের

এর আগে ভবানীপুর উপনির্বাচনের জন্য বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের হয়ে প্রচারের জন্য তারকা প্রচারকের তালিকায় নাম ছিল বাবুল। কিন্তু তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রচার করতে রাজী হন নি তিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে ভোটে লড়ার জন্য শুভেচ্ছা জানান তিনি।

তবে এখন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে। তাই এখন কী তিনি এবার ‘বোন’ প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের বিরুদ্ধে প্রচারে নামবেন? কারণ প্রিয়াঙ্কাকে ভোট দেওয়া মানে নিজের দলের বিরোধিতা করা। এই বিষয়ে আজ, রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে বাবুল বলেন যে তিনি ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে প্রচার করবেন না। এটা তাঁর কাছে বেশ বিড়ম্বনার।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্রিয়াঙ্কার বেশ প্রশংসা করেন বাবুল। তিনি এও জানান যে তিনি প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে প্রচারে যাবেন না। তিনি বলেন, “আমি রিকোয়েস্ট করব (তৃণমূলকে) আমাকে বিড়ম্বনায় ফেলবেন না”।

এদিকে বাবুল সুপ্রিয়র আইনজীবী হিসেবেই প্রথম নজরে আসেন প্রিয়াঙ্কা। বাবুলের জন্যি তাঁর রাজনীতিতে আসা বলা যেতে পারে। রাজনীতিতে আসার জন্য বাবুলই তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু এখন সেই বাবুলই অন্য দলে। এই কারণেই এমন নানান প্রশ্ন উঠে আসছে রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল ভবানীপুরে প্রচারের সময় বলেন, “বাবুল বোনের বিরুদ্ধে প্রচার করবেন বলে মনে হয় না।” অর্থাৎ, রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত সম্পর্ককেই সামনে রাখছেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস যে বাবুল সুপ্রিয় তাঁকে একসময় রাজনীতিতে নামিয়েছিলেন, দলবদল করলেও তিনি অন্তত তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করবেন না। আর বাবুল সুপ্রিয়ও আজ সেকথাই জানিয়ে দিলেন।

আরও পড়ুন- ফের দলবদল, বাবুলের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই ঘাসফুল শিবিরে ফিরলেন আরও এক সাংসদ

কিন্তু এখানেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, যে বাবুল নিজেই বলছেন, তিনি আবেগের বশে নয়, বরং জেনেশুনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাহলে তাঁর দল যদি চায়, তাহলে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচারে যেতে আপত্তি কোথায়? ভোট প্রচারে কি রাজনৈতিক পরিচয় সরিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে বেশি মূল্য দেওয়া সাজে? এমন নানান প্রশ্ন উঠে আসছে রাজনৈতিক মহলে।

Related Articles

Back to top button